পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রেইন ফরেস্ট আমাজন বনের ভেতরেই আছে আয়তনে পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম আমাজন নদী। একটা নদীর দৈর্ঘ্য কতই বা হতে পারে, ১০০০ বা ২০০০ কিলোমিটার? কিন্তু নদীটির দৈর্ঘ্য তার চেয়েও অনেক বেশি। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৪০০ কিলোমিটার।এই নদীর প্রস্থ ১৯০ কিলোমিটার বা ১২০ মাইল পর্যন্তও হয়ে যায় কখনও কখনও।এর প্রায় ১,১০০টি উপনদী রয়েছে, যার মধ্যে ১৭টির দৈর্ঘ্য ১০০০ মাইলের বেশি। এ নদী আমাজন অঞ্চলের প্রাণিবৈচিত্র্যের প্রধান উৎস।
আমাজন নদী , বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী
Dead Sea । মৃত সাগর কি? এখানে কেন মানুষ ভেসে থাকে ?
‘ডেড সি’ নাম শুনলেই গা কেমন ছমছম করে ওঠে! মনে হয়, মৃত লোকদের এক সাগর,যেখানে ভাস লাশ! আসলে বিষয়টি কিন্তু মোটেও ভয়ংকর নয়; বরং ‘ডেড সি’ ভীষণ সুন্দর, ভ্রমণে যাওয়ার জন্য চমৎকার এক জায়গা। এই ‘ডেড সি’র পানি এতটাই ঘন যে ওই পানিতে কেউ চাইলে শুয়েও থাকতে পারে। শুধু তা-ই নয়, চাইলে ওই পানি শুয়ে বইও পড়া যায়। কিংবা ল্যাপটপ নিয়ে নেট ব্রাউজও করা যাবে।সব কিছু যদি নরমাল হয় তাহলে এর নাম ‘ডেড সি’ হলো খেন?"
বাংলায় ‘মৃত সাগর’কে ইংরেজিতে বলা হয় ‘ডেড সি’ ।ডেড সির পশ্চিমে পশ্চিম তীর এবং ইসরায়েল, পূর্বে জর্ডান অবস্থিত।এই সাগরের পানির প্রধান উৎস জর্ডান নদী। মৃত সাগরের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ৬৭ কিলোমিটার ও প্রস্থ ১৮ কিলোমিটার আর গভীরতা ১.২৪০ ফুট। এই স্থানটি পৃথিবীর সবচেয়ে নীচু স্থান বা স্থলভূমি। মৃত সাগর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪২০ মিটার বা ১ হাজার ৩৭৮ ফুট নিচে অবস্থিত। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ২০ লাখ বছর আগে এ সাগরের উৎপত্তি। জর্দান নদীর সঙ্গে সংযুক্ত হলেও ডেডসি মূলত একটি হ্রদ।
কেন এই সাগরে মানুষ ভেসে থাকে বা ডোবেনা?
জিবুতির আসাল হ্রদের পর এটি বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লবণাক্ত হ্রদ।
এর লবণাক্ততা শতকরা ৩০% এবং এটি সমুদ্রের পানির চাইতে ৮.৬ গুণ বেশি লবণাক্ত।উচ্চ লবনাক্ততার দরুন যে কেউ মৃত সাগরের পানিতে ভেসে থাকতে পারে । এই আচরণ যুক্তরাষ্ট্র-এর ইউটাতে অবস্থিত গ্রেট সল্ট লেক এর মত।
স্বাস্থ্যগত প্রভাব
উচ্চ বায়ুমন্ডলীয় চাপ , শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকা রোগীদের জন্য বেশ উপকারী ডেড সির পরিবেশ।চর্মরোগ সোরিয়াসিস( psoriasis) এর জন্য দীর্ঘসময় সূর্যস্নান বেশ উপকারী । এই অঞ্চলের অতি বেগুনি রশ্মির স্বল্পতা সূর্যস্নানের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে বেশ সহায়ক ভূমিকা রেখেছে । এছাড়া রোগটি নিরাময়ে জন্য মৃত সাগরের লবণও বেশ উপকারী বলে বৈজ্ঞানিকদের গবেষণায় দাবী করা হয়েছে।
জীব ও উদ্ভিদ বৈচিত্র
বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মহাসাগরের পানির তুলনায় ডেড সির পানিতে মিশে থাকা খনিজ উপাদানগুলোর পার্থক্য রয়েছে। মৃত সাগরের পানিতে মিশে থাকা লবণে ১৪% ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, ৪% পটাশিয়াম ক্লোরাইড, ৫০% ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড এবং ৩০% সোডিয়াম ক্লোরাইড রয়েছে।মৃত সাগরের পানির ঘনত্ব ১.২৪ কেজি/লিটার। এই সকল উপাদানের কারণে ডেড সি’র পানির প্লবতা শক্তি পৃথিবীর অন্যান্য স্থানের পানির চেয়ে অনেক বেশি।
প্লবতা শক্তির কারণে এই সাগরে কোনো কিছু ডুবে না। যে কেউ মৃত সাগরের পানিতে ভেসে থাকতে পারে। প্রাচীনকাল থেকে এই হ্রদটি মিশরের মমি তৈরির জন্য, সার উৎপাদনের জন্য পটাশসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক খনিজ পদার্থের উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই হ্রদ থেকে প্রাপ্ত লবণ ও খনিজ পদার্থ বিভিন্ন প্রসাধনী ও সুগন্ধি দ্রব্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
ডেড সি’তে কোনো মাছ নেই, কারণ এই সাগরের পানিতে কোনো মাছ বাস করতে পারে না। তেমনিভাবে এর পাশে জর্ডান নদীতেও কোনো মাছ নেই। এই সাগরের পানিতে কোন উদ্ভিদ বা মাছ বাচতে পারে না বলেই মূলত এই সাগরকে ডেড সি বা মৃত সাগর বলা হয়ে থাকে। এই সাগরের পানিতে শুধুমাত্র সামান্য কিছু ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক অণুজীবের সন্ধান পাওয়া যায়। ডেড সি তীরবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে উট, খরগোশ, খেঁকশিয়াল এমনকি চিতাবাঘ দেখতে পাওয়া যায়। অতীতে জর্ডান নদীর বদ্বীপ অঞ্চলে প্যাপিরাস এবং পাম গাছে সমৃদ্ধ বনভূমি ছিল।
মৃত সাগর দিন দিন সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে এবং সত্যি সত্যিই মারা যাচ্ছে।
তিরিশ বছর আগে যখন ইজরায়েলের এনগেডি রিজর্টটি তৈরি হয়েছিল তখন ডেড সির পানি ছিল তার দেয়ালের গা ঘেঁষে.
কিন্তু এখন এই সমুদ্র এত দ্রুত সঙ্কুচিত হয়ে আসছে যে তার পানি দেখতে হলে পর্যটকদের জন্য তৈরি ট্রেনে করে পাড়ি দিতে হয় প্রায় ২ কিলোমিটার পথ।কিন্তু কেনো মৃত্যু ঘটছে ডেড সির?কারণটা হলো যে জর্ডান নদী থেকে এখানে পানি আসে, সেই নদীর পানি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
যদিও ডেডসির সমস্যা সমাধানের একটি পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে।সেটা হলো, লোহিত সাগর থেকে মরুভূমির ওপর দিয়ে একটি পাইপলাইন তৈরি করে ডেডসিতে পানি আনা।যেই প্রকল্পটি হবে অনেক ব্যয়বহুল। তবে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ডেডসি হয়তো তার প্রান কিছুটা ফিরে পাবে।
YouTube Video Link :
Dead Sea । মৃত সাগর কি? এখানে কেন মানুষ ভেসে থাকে ? Why Does Everyone Float In Dead Sea?
ঘূর্ণিঝড়ের নাম কিভাবে রাখা হয়?
প্রতিবছর বঙ্গপসাগরে বেশ কিছু ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়।এর মধ্যে কিছু ঝড় নিম্নচাপ হয়ে আশপাশের দেশ যেমন ভারত বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের ভূখণ্ডে আঘাত এনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে, কিছু ঝড় আবার লঘুচাপ হয়ে সামান্য বৃষ্টিপাত ঝরিয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে কেটে যায়।যে নিম্নচাপ গুলো ভূখন্ডে আঘাত আনার সম্ভবনা থাকে তাদেরকে বিভিন্ন নাম দেয়া হয়।এই নাম গুলোর দেখে আমাদের মনে কৌতুহল জাগে কে কিভাবে এই নামগুলো দেয়। আমাদের আজকের এই পর্বে জানবো বঙ্গপসাগরে তৈরি হওয়া ঝড়ের নাম কিভাবে দেয়া হয়।
ঘূর্ণিঝড় (Cyclone) ঘূর্ণিঝড় হলো গ্রীষ্মমন্ডলী ঝড় বা বায়ুমন্ডলীয় একটি উত্তাল অবস্থা যা বাতাসের প্রচন্ড ঘূর্ণায়মান গতির ফলে সংঘটিত হয়। এটি সাধারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহের একটি। পৃথিবীর ৩০º উত্তর এবং ৩০º দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চল গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত।
দক্ষিণ আটলান্টিক এবং দক্ষিণ-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ব্যতীত পৃথিবীর বাদবাকি গ্রীষ্মমন্ডলীয় সাগরাঞ্চল যে মারাত্মক বায়ুমন্ডলীয় দুর্যোগসমূহ জন্ম দেয় তা সাধারণভাবে ঘূর্ণিঝড় হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর পৃথিবী জুড়ে গড়ে ৮০টি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা কমপক্ষে ২৬-২৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস থাকা আবশ্যক এবং কমপক্ষে ৫০ মিটার গভীর পর্যন্ত এ তাপমাত্রা থাকতে হয়।এজন্য আমরা দেখি সাধারণত কর্কট ও মকর ক্রান্তিরেখার কাছাকাছি সমুদ্র গুলিতে গ্রীষ্মকালে বা গ্রীষ্মের শেষে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। অন্য কোথাও হয় না।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আঞ্চলিক কমিটিই ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে থাকে। বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলংকা এবং থাইল্যান্ডকে নিয়ে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার একটি প্যানেল বা কমেটি আছে যার নাম হচ্ছে 'স্কেপে'।উত্তর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট সব ঝড়ের নামকরণ করা হয় এই ৮ টি দেশের আগে থেকেই প্রস্তাব করা নামগুলো থেকে।
২০০০ সালে স্কেপের প্রস্তাবানুযায়ী প্রতিটি দেশ থেকে ১০টি করে নাম জমা নেওয়া হয়, এবং এখান থেকেই পরবর্তীতে সব ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা শুরু হয়।উত্তর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের সকল তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষন এবং পূর্বাভাসের দায়িত্ব প্রদান করা হয় ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগকে।তারাই ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ওই ৮টি দেশের প্রস্তাবিত নামগুলো থেকে সবার সাথে সম্বন্বয় করে ঘূর্ণিঝড়ের একটি নাম বেছে নেয়।
একের পর এক সৃষ্ট ঝড়ের নামকরণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক দেশের পাঠানো নামের তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে নামকরণ করা হয়। বেশ কিছুদিন আগের ঘূর্ণিঝড় 'তিতলি' নামটি পাকিস্তানের প্রস্তাব করা ছিল।ঘূর্ণিঝড় তিতলির একই সময়ে আরেকটি ঘূণিঝড় হয়েছে ওমানের দিকে, যার নাম লুবান। এই নামটি ওমান নিজেই প্রস্তাব করেছিল। এরপূর্বে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং আইলার নাম রেখেছিল যথাক্রমে ওমান এবং মালদ্বীপ।
অনেক সময় আমাদের মনে হয় ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ কেন মেয়েদের নামে করা হয়। আসলে সব সময় যে মেয়েদের নামে ঝড়ের নাম রাখা হয় তা কিন্তু না। নারী.পুরুষ এবং বস্তুগত নাম মিলিয়েই ঝড়ের নাম রাখা হয়।যেমন-সিডর,মহাসেন,কোমেন, মুরা,রুয়ানো, হুদহুদ ইত্যাদি।
বাংলাদেশ থেকে প্রস্তাব করা নামগুলো হলো - অনিল, অগ্নি, নিশা, গিরি, হেলেন, চপলা, অক্ষি, ফণী। মেয়েদের নামের সাথে মিলাতে গেলে এখানে ৩ টি নাম আছে মেয়েদের।পাকিস্তানের প্রস্তাব করা ৮টি নামের মধ্যে ৭টিই মেয়েদের নাম। যেমন নিলুফার, তিতলী, নার্গিস, লায়লা, কেইলা, ভারদা, নিলাম।এখন বুঝেন মেয়েদের নামে কেন ঝড়ের নাম বেশি হয়।
ঝড় বা ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে তিনটি তিনটি তথ্য!
⛔সাইক্লোন:মূলত দক্ষিণ-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর এবং ভারত মহাসাগর হতে উৎপন্ন ঝড়কে সাইক্লোন বলা হয়।
⛔হ্যারিকেন: উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর এবং অ্যাটল্যান্টিক মহাসাগরে সৃষ্ট ঝড় সমূহকে বলা হয় হ্যারিকেন।
⛔টাইফুন: চীন ও জাপান সংলগ্ন প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপন্ন ঝড়কে টাইফুন বলা হয়। চীনা টাই-ফেং শব্দের অর্থ হলো ‘প্রচণ্ড বাতাস’।
পাপের শহর লাস ভেগাস
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যের একটি শহর হচ্ছে লাস ভেগাস। সারা বিশ্বে এটি প্রমোদ নগরী হিসেবে বিখ্যাত। এই শহরকে মনোরঞ্জনের রাজধানীও...
-
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যের একটি শহর হচ্ছে লাস ভেগাস। সারা বিশ্বে এটি প্রমোদ নগরী হিসেবে বিখ্যাত। এই শহরকে মনোরঞ্জনের রাজধানীও...
-
গ্রামের বুক চিরে চলে গেছে আঁকাবাঁকা সরু পথ। তার দু’পাশে বিস্তীর্ণ গোলাপের বাগান। ফুটে আছে টকটকে লাল গোলাপ। পুরো গ্রামজুড়েই ফুলের সৌরভ। দৃশ্য...
-
‘ডেড সি’ নাম শুনলেই গা কেমন ছমছম করে ওঠে! মনে হয়, মৃত লোকদের এক সাগর,যেখানে ভাস লাশ! আসলে বিষয়টি কিন্তু মোটেও ভয়ংকর নয়; বরং ‘ডেড সি’ ভীষণ সু...
