Showing posts with label প্রকৃতি. Show all posts
Showing posts with label প্রকৃতি. Show all posts

সেন্ট মার্টিন :ইতিহাস ও ভ্রমণ গাইড

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবাল দ্বীপ। এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে ও মায়ানমার-এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের সমুদ্রপ্রেমীদের কাছে এই দ্বীপটি এখন ব্যাপক পরিচিত একটি নাম। 


                                                         Image Source: Myself 

সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার,এই দ্বীপটি উত্তর-দক্ষিণে লম্বা। দ্বীপটির পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে সাগরের অনেক দূর পর্যন্ত অগণিত শিলাস্তূপ রয়েছ।  যা জোয়ারের সময় তলিয়ে যায় এবং ভাটার সময় জেগে ওঠে।  এগুলোকে ধরলে এর আয়তন হবে প্রায় ১০-১৫ বর্গ কিলোমিটার। এ দ্বীপটি উত্তর ও দক্ষিণে প্রায় ৫ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার লম্বা। দ্বীপের প্রস্থ কোথাও ৭০০ মিটার আবার কোথাও ২০০ মিটার। 


সেন্টমার্টিন দ্বীপ সমতল ও সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা থেকে ৩ দশমিক ৬ মিটার ওপরে। মূল দ্বীপ ছাড়াও এখানে ১০০ থেকে ৫০০ বর্গমিটার আয়তন বিশিষ্ট কয়েকটি ক্ষুদ্র দ্বীপ রয়েছে, যেগুলোকে স্থানীয়ভাবে ছেড়াদিয়া বা ছেঁড়াদ্বীপ নামে অভিহিত করা হয়। ছেঁড়া দ্বীপ হলো বাংলাদেশের মানচিত্রে দক্ষিণের সর্বশেষ বিন্দু। দক্ষিণ দিকে এর পরে বাংলাদেশের আর কোনো ভূখণ্ড নেই।  


মূল দ্বীপের সঙ্গে ছেঁড়া দ্বীপের সংযোগস্থল  সামান্য নিচু হওয়ায় জোয়ারের সময় এটি তলিয়ে যায়। তাই ভাটার সময় হেঁটে ছেঁড়া দ্বীপে যাওয়া গেলেও জোয়ারের সময় নৌকা নিয়ে যেতে হয়। সবচেয়ে ভালো হয় উত্তর প্রান্ত থেকে পশ্চিম বিচ ধরে সম্পূর্ণ পথ পায়ে হেঁটে গেলে। নির্জন এই পথটা অসম্ভব সুন্দর। 

                                                          Image Source: Myself 

সেন্টমার্টিনে সামুদ্রিক শৈবাল একটি গুরুত্বপূর্ণ জলজ সম্পদ। স্থানীয়ভাবে ‘পেজালা’ নামে পরিচিত এক ধরণের সামুদ্রিক শৈবাল সেন্টমার্টিনে প্রচুর পাওয়া যায়। সেন্টমার্টিন প্রবাল দ্বীপে প্রায় ৬৬ প্রজাতির প্রবাল, ১৮৭ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক, ১৫৩ প্রজাতির সামুদ্রিক শৈবাল, ১৫৭ প্রজাতির গুপ্তজীবী উদ্ভিদ, ২৪০ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, ৪ প্রজাতির উভচর ও ১২০ প্রজাতির পাখি পাওয়া যায়। এছাড়াও রয়েছে ১৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী।


অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে- স্পঞ্জ, শিল কাঁকড়া, সন্ন্যাসী শিল কাঁকড়া, লবস্টার ইত্যাদি। মাছের মধ্যে রয়েছে- পরী মাছ, প্রজাপতি মাছ, বোল করাল, রাঙ্গা কই, রূপচাঁদা, সুঁই মাছ, লাল মাছ, উড়ুক্কু মাছ ইত্যাদি। সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম পাড়ার স্থান হিসেবে সেন্টমার্টিন খ্যাত।


 অন্যান্য উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে- কেয়া, শ্যাওড়া, সাগরলতা, বাইন গাছ ইত্যাদি। বৃক্ষ জাতীয় গাছের মধ্যে অন্যতম হলো নারিকেল গাছ। সেন্টমার্টিন দ্বীপের ঐতিহ্যবাহী উদ্ভিদ হলো কেয়া গাছ। দ্বীপে কেওড়া বন ছাড়া প্রাকৃতিক বন বলতে যা বোঝায় তা নেই।তবে সৈকতের প্রান্তজুড়ে বেশ কিছু ঝাউ গাছ দেখা যায়।  


দ্বীপের জনসংখ্যা প্রায় ১২ হাজার। এখানে জীবন-জীবিকা মাছ ধরা, শুটকি প্রকৃয়াকরণ, সামান্য চাষাবাদ ও পর্যটন সেবার ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছর পর্যটন মৌসুমে যেটা অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত,তখন দ্বীপটি কর্মচঞ্চল থাকে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের মানুষ নিতান্ত সহজ-সরল, তাদের উষ্ণ আতিথেয়তা পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। 


কবে প্রথম এই দ্বীপটিকে মানুষ শনাক্ত করেছিল তা জানা যায় না। প্রথম কিছু আরব বণিক এই দ্বীপটির নামকরণ করেছিল জিঞ্জিরা। উল্লেখ্য এরা চট্টগ্রাম থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যাতায়াতের সময় এই দ্বীপটিতে বিশ্রামের জন্য ব্যবহার করতো। কালক্রমে চট্টগ্রাম এবং তৎসংলগ্ন মানুষ এই দ্বীপটিকে জিঞ্জিরা নামেই চিনতো। ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে কিছু বাঙালি এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষ এই দ্বীপে বসতি স্থাপনের জন্য আসে। এরা ছিল মূলত মৎস্যজীবী। 


যতটুকু জানা যায়, প্রথম অধিবাসী হিসাবে বসতি স্থাপন করেছিল ১৩টি পরিবার। এরা বেছে নিয়েছিল এই দ্বীপের উত্তরাংশ। ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ব্রিটিশ ভূ-জরিপ দল এই দ্বীপকে ব্রিটিশ-ভারতের অংশ হিসাবে গ্রহণ করে।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক শেখ বখতিয়ার উদ্দিন এর মতে, ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দে দ্বীপটিকে যখন ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তখন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মার্টিনের নাম অনুসারে দ্বীপটির নামকরণ করা হয়।এরপর ধীরে ধীরে এই অঞ্চলের বাইরের মানুষের কাছে, দ্বীপটি সেন্ট মার্টিন নামেই পরিচিত লাভ করে। 


কীভাবে যাবেন:তবে ঢাকা থেকে বাসে করে সরাসরি টেকনাফও যাওয়া যায়। ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়েদাবাদ থেকে বিভিন্ন পরিবহনের বাস সরাসরি টেকনাফ যায়। ১০-১২ ঘণ্টার এই ভ্রমণে বাস অনুযায়ী ভাড়া  সাধারণত ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। অথবা ঢাকা থেকে প্রথমে কক্সবাজার এসে তারপর কক্সবাজার থেকে টেকনাফ যাওয়া যাবে।


কক্সবাজার থেকে লোকাল বাস, সিএনজি বা মাইক্রোবাস/জিপ ভাড়া করে টেকনাফ যাওয়া যাবে। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ যেতে সময় লাগে অবস্থা ভেদে প্রায় ১-২ ঘণ্টা। ভাড়া যানবাহন ভেদে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।


টেকনাফের দমদমিয়া ঘাট থেকে বেশ কয়েকটি শিপ সকাল ৯ঃ৩০ মিনিটে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে  ছাড়ে যায়। যা দ্বীপে পৌছায় ১২ টার মধ্যে। এগুলো আবার সেন্ট মার্টিন থেকে ফিরে আসে বিকেল ৩ টার দিকে। শিপ ও ক্লাস ভেদে এগুলোর ভাড়া ৫৫০ থেকে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত। তবে অফ সিজন যেটা এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত,এই সময়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকে, তখন সেন্ট মার্টিন যাওয়ার একমাত্র উপায় হল ট্রলার।তবে ট্রলারে যাওয়াটা খুবই ঝুকি পৃর্ন।


কোথায় থাকবেন: সেন্টমার্টিনে থাকার জন্য বেশ উন্নতমানের কয়েকটি হোটেল ও কটেজ রয়েছে। অনেক বাড়িতেও আছে পর্যটকদের জন্য থাকার ব্যবস্থা। এছাড়া তাঁবুতে থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে। নিজের সাধ্যমতো যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন। তবে অবশ্যই ভাড়া আগে মিটিয়ে নিতে হবে।


YouTube Link: সেন্ট মার্টিন :ইতিহাস ও ভ্রমণ গাইড


বঙ্গোপসাগর : বিশ্বের সবচেয়ে বড় উপসাগর

বঙ্গোপসাগর হল ভারত মহাসাগরের উত্তর অংশে অবস্থিত প্রায় ত্রিভূজাকৃতি উপসাগর, যার পশ্চিমে রয়েছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা, উত্তর দিকে রয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ এবং পূর্ব দিকে রয়েছে মায়ানমার ও থাইল্যান্ড।

নামকরণ

বঙ্গোপসাগর নামের তেমন কোন উল্লেখযোগ্য ইতিহাস না থাকলেও প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্রে একে বলা হয়েছে ‘মহোদধি, (অর্থাৎ, বিরাট জলাধার)। আর প্রাচীন মানচিত্রগুলিতে এই উপসাগরটি সাইনাস গ্যাঞ্জেটিকাস বা গ্যাঞ্জেটিকাস সাইনাস নামে পরিচিত ছিল, যার অর্থ গঙ্গা উপসাগর। 

আয়তন

২১,৭২,০০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপসাগর বিশ্বের বৃহত্তম উপসাগর হিসেবে পরিচিত। যার সর্বাধিক প্রস্থ ১,৬১০ কিমি, আর গড় গভীরতা প্রায় ২,৬০০ মিটার এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ৫,২৫৮ মিটার।

তাপমাত্রা

বঙ্গোপসাগরের পানিরাশির ঊর্ধ্বপৃষ্ঠের গড় বার্ষিক তাপমাত্রা প্রায় ২৮° সে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকে মে মাসে ৩০°সে এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ২৫°সে। তবে তাপমাত্রার বার্ষিক পার্থক্য খুব একটা বেশি নয়, উপসাগরের দক্ষিণাংশে মাত্র ২°সে এবং উত্তরাংশে ৫°সে।

লবণাক্ততা ও বর্ণ

বঙ্গোপসাগরের পানিরাশির উপরের অংশে লবণাক্ততা ৩২% হতে ৩৪.৫% পর্যন্ত ওঠানামা করে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে এর ব্যাপ্তি ১০% থেকে ২৫% পর্যন্ত। কিন্তু নদীর মোহনায় পানিরাশির ঊর্ধ্বপৃষ্ঠের লবণাক্ততা থাকে মাত্র ৫% কিংবা তার চেয়েও কম।

পানির বর্ণ ও স্বচ্ছতা  

বঙ্গোপসাগরের উন্মুক্ত অংশের পানির বর্ণ গাঢ় নীল এবং উপকূলের দিকে পানির বর্ণ ক্রমান্বয়ে পরিবর্তিত হয়ে হাল্কা নীল থেকে সবুজ বর্ণের হয়ে থাকে। পানির স্বচ্ছতা যথেষ্ট, কোন কোন স্থানে ৪০ থেকে ৫০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত দেখা যায়। তবে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর মোহনায় কম স্বচ্ছ এবং অত্যন্ত ঘোলা পানি পরিলক্ষিত হয়

দ্বীপপুঞ্জ

বঙ্গোপসাগরের অনেকগুলো দ্বীপ রয়েছে,যার মধ্যে - আন্দামান, নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ অন্যতম। গ্রেট আন্দামান হচ্ছে আন্দামান দ্বীপমালার প্রধান দ্বীপ; অন্যদিকে রিচি'র দ্বীপটি ক্ষুদ্রতম দ্বীপপুঞ্জের আওতাধীন। এছাড়া, আন্দামান, নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এর ৫৭২টি দ্বীপের মধ্যে ৩৭টিতে অধিবাসী রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের ঠিক মাঝামাঝি স্থানে আবস্থিত ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জেই বেশীরভাগ মানুষ বাস করে, যা মোট জনগোষ্ঠীর ৬.৫%।বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বিপ সেন্ট মার্টিন এই বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত,যার দৈঘ্য ৮ বর্গ কিলোমিটার।

                                                        Image Source : Myself

সমুদ্র বন্দর

ভারতের ব্যস্ততম সমুদ্রবন্দর বিশাখাপত্মম এবং বাংলাদেশের প্রধান দুটি সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর এই উপসাগরে অবস্থিত। মায়ানমারের পূর্ববর্তী রাজধানী ও সর্ববৃহৎ নগরী ইয়াংগুন, এই বঙ্গোপসাগরের একটি উল্লেখযোগ্য সমুদ্রবন্দর।

নদী ও নদীবন্দর

বেশ কিছু  বৃহত্তম নদী এই উপসাগরে এসে মিশেছে। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য গঙ্গা যার প্রধান দুই শাখানদী পদ্মা ও হুগলি, ব্রহ্মপুত্র যার শাখা নদী যমুনা ও মেঘনা, এছাড়া ইরাবতী, গোদাবরী, মহানদী, কৃষ্ণা, সুবর্ণরেখা, কাবেরী  নদীসমূহ বঙ্গোপসাগরে এসে মিশেছে।

বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলি হল চেন্নাই, চট্টগ্রাম, কলকাতা, হলদিয়া, মঙ্গলা, পারাদীপ, বিশাখাপত্তনম ও ইয়াঙ্গন। বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার এই উপসাগরের তীরে বাংলাদেশে অবস্থিত। উল্লেখ্য যে, ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর ব-দ্বীপকে ঘিরে গঠিত হয়েছিল।এমনকি, মায়ানমারের ইরাবতী নদীও  এ  উপসাগরে মিলিত হয়ে একসময় গভীর ও ঘন ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের সৃষ্টি করেছিল।

মৎস্যক্ষেত্র

বঙ্গোপসাগরের অসংখ্য প্রজাতির চিংড়ি ও মাছের আবাসস্থল। যদিও উপসাগরের সর্বত্রই জলজ প্রাণী বিশেষ করে কাঁকড়া, শামুক জাতীয় ছোট ছোট সামুদ্রিক প্রাণী, ঝিনুক, শেল, হাঙ্গর ও মৎস্য সম্পদ রয়েছ, তবে কিছু কিছু বিশেষ স্থানে মৎস্য ঘনত্ব অধিক হারে বজায় থাকে, যে স্থানগুলি গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত। বঙ্গোপসাগরে এ পর্যন্ত চারটি মৎস্যক্ষেত্র শনাক্ত করা গিয়েছে। এগুলি হচ্ছে দক্ষিণের মৎস্যক্ষেত্র , দক্ষিণের দক্ষিণ মৎস্যক্ষেত্র , মধ্যভূমি  এবং সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড মৎস্যক্ষেত্র।

বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাসরত মানুষরা মাছ ধরার উপর নির্ভরশীল। জেলেরা 26 থেকে 44 প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ধরে এই উপসাগর থেকে।  বছরে, গড়ে বঙ্গোপসাগর থেকে দুই মিলিয়ন টন মাছ ধরা হয়। বিশ্বের উপকূলীয় জেলেদের প্রায় 31% এই উপসাগরে বাস করে।

জোয়ারভাটা

বঙ্গোপসাগরে অর্ধ-আহ্নিক ধরনের জোয়ারভাটা সংঘটিত হয়ে থাকে, অর্থাৎ প্রতি ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট সময়কালে দুবার জোয়ার এবং দুবার ভাটা পর্যায়ক্রমে সংঘটিত হয়। অগভীর এলাকা, উপসাগরীয় এলাকা এবং মোহনা এলাকায় জোয়ারভাটা সর্বোচ্চ পরিলক্ষিত হয়। জোয়ার তরঙ্গের গড় উচ্চতা শ্রীলংকা উপকূলে ০.৭ মি এবং গাঙ্গার বদ্বীপ উপকূলে ৪.৭১ মি। বঙ্গোপসাগরে কয়েকটি নদীর মুখে জোয়ারভাটা স্রোত সৃষ্টি হয়, যেমন হুগলী এবং মেঘনা নদী।

বাংলাদেশের একমাত্র সমুদ্রসীমা হবার কারণে দেশের উন্নয়নে বঙ্গোপসাগরের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী তাদের বাৎসরিক মহড়া এই সাগরেই করে থাকে এবং আন্তর্জাতিক মহড়াও এখানেই হয়ে থাকে।বাংলাদেশের সমুদ্র অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক গ্যাসের পাওয়ার সস্মবনা রয়েছ।

এছাড়া, কৌশলগত দিক দিয়ে বঙ্গোপসারগর ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন, কারণ বঙ্গোপসারগরের উপকূল দিয়ে তাদের দুরবর্তী দ্বীপ আন্দামান  ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ রয়েছে, এছাড়া ভারতের কলকাতা, চেন্নাই, ও বিশাখাপত্মম এর মত ব্যস্ততম সমুদ্রবন্দর এই উপসারেই অবস্থিত।

ঘূর্ণিঝড় ও ঘূর্ণিবাত্যা

বঙ্গোপসাগরে প্রতি বছর বেশ কিছু ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়। যখন বঙ্গোপসাগরে উৎপত্তি হয়ে ৭৪ মাইল (১১৯ কিলোমিটার) গতিবেগে বাতাস ঘূর্ণায়মান অবস্থায় মৌসুমী ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয় তখন তা সাইক্লোন বা ঘূর্ণিবাত্যা নামে আখ্যায়িত হয়। এ সাইক্লোন বা ঘূর্ণিবাত্যাই আটলান্টিক মহাসাগরে হারিকেন নামে পরিচিত।১৯৭০ সালে  এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে  বাংলাদেশের ভোলায় কয়েক লক্ষ মানুষ প্রাণ হারান, যা স্মরণ করে আজো অনেক লোক শিউরে উঠেন।

নৌ ভূতত্ত্ব

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড হচ্ছে একটি ১৪ কিলোমিটার ব্যাপী বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রের গভীর খাদ। গভীরতম এই উপত্যকা রেকর্ড আয়তন প্রায় ১৩৪০ মিটার। এখানকার ডুবো গিরিখাত  বিশ্বের বৃহত্তম ডুবো গিরিখাত।

দূষণ

প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে মার্চ বা তার কাছাকাছি মাসগুলোতে দক্ষিণ এশিয়া এবং ভারত মহাসাগর থেকে আসা বায়ু দূষণ মেঘ বঙ্গোপসাগরের উপর জমা হয়। যার মধ্যে যানবাহনের ধোঁয়া, রান্নাবান্নায় নির্গত ধোঁয়া এবং শিল্প-কারখানার বর্জ্য অন্যতম।

বিভিন্ন ধরনের দূষক পদার্থের দ্বারা বাংলাদেশের সামুদ্রিক পরিবেশ প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে দূষণের শিকার হয়ে থাকে। উল্লেখযোগ্যভাবে বলা যায়, সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উৎপাদন এবং কুতুবদিয়া উপকূলীয় গ্যাসক্ষেত্রের আবিষ্কারের উদ্দেশ্যে সমুদ্রবক্ষে খনিজ নিষ্কাশন ও বৃহৎ মাত্রার খননকাজ পরিচালনা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার উপকূলবর্তী দ্বীপসমূহে সঞ্চিত সৈকত বালি আহরণ প্রভৃতি কর্মকান্ডের ফলে বঙ্গোপসাগরের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।


YouTube Link: বঙ্গোপসাগর : বিশ্বের সবচেয়ে বড় উপসাগর

নীল নদ | পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নদ | Nile River: The Longest River on Earth.

বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম একটি হলো মিশরীয় সভ্যতা। এই সভ্যতার উৎপত্তি নীলনদকে কেন্দ্র করেই।  

আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রবাহিত পৃথিবীর বৃহত্তম নদের নাম নাইল, যাকে আমরা নীল নদ নামে চিনি। প্রাচীনকাল থেকেই মিসরের সভ্যতা গড়ে উঠেছিল নীল নদকে কেন্দ্র করে।পৃথিবীর বৃহত্তম এই নদের আয়তন ৬৬৫০ কিলোমিটার। এর সর্বোচ্চ প্রশস্ততা ২.৮ কিলোমিটার। গড় গভীরতা ২৬-৩৬ ফুট (৮-১১ মিটার)। এই নদটি আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় ১০টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। দেশগুলো হচ্ছে সুদান, দক্ষিণ সুদান, রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, কঙ্গো, তাঞ্জানিয়া, কেনিয়া, ইথিওপিয়া, উগান্ডা ও মিসর।  নদীটা উগান্ডার ভিক্টোরিয়া লেক থেকে উত্পন্ন হয়ে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে ভূমধ্যসাগরে গিয়ে মিশেছে।


এর দুইটি উপনদ রয়েছে, শ্বেত নীল নদ ও নীলাভ নীল নদ। এর মধ্যে শ্বেত নীল নদ দীর্ঘতর। শ্বেত নীল নদ আফ্রিকার মধ্যভাগের হ্রদ অঞ্চল হতে উৎপন্ন হয়েছে। নীলাভ নীল নদ ইথিওপিয়ার তানা হ্রদ থেকে উৎপন্ন হয়ে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে সুদানে প্রবেশ করেছে। দুইটি উপনদী সুদানের রাজধানী খার্তুমের নিকটে মিলিত হয়েছে।

এই নদের নামকরণ নিয়েও বহু বিবাদ রয়েছে। যেমন এক ধারণা অনুযায়ী নীল শব্দটি সেমেটিক শব্দ নাহাল থেকে এসেছে,যার অর্থ নদী। আবার অন্য ধারণা অনুযায়ী নীল শব্দটি গ্রিক শব্দ নেলস থেকে এসেছে, যার অর্থ উপত্যকা।

মিশরের প্রায় ৮ কোটি মানুষ বসবাস করে নীলনদের উপকূলে, যা মিশরের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যার সমান। মিশরের সব চেয়ে বড় শহর আলেকজান্দ্রিয়া নীল নদীর মোহনায় অবস্থিত যেখানে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের বাসস্থান। 

প্রাচীন মিশর সভ্যতা প্রায় পুরোটাই নীলনদের পানির উপর নির্ভর ছিল। এই নদের পানি মানুষ পানীয় বা কৃষি কাজের জন্য ব্যবহার করত। যেহেতু মিশরে বৃষ্টিপাত খুব কম হয় তাই ইথিওপিয়াতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে তার ফলে মিশরে বন্যা সৃষ্টি এবং সে বন্যার কাদামাটি কৃষি কাজের জন্য ব্যবহার করা হতো। 

এছাড়াও পিরামিড তৈরিতে নীলনদ এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে। পিরামিডের পাথর নিয়ে আসার জন্য নীল নদকে মিশরীয়রা পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। নীলনদের দক্ষিণ প্রবাহটি ভয়ংকর নীল কুমিরের জন্য বিখ্যাত।প্রতি বছর প্রায় ২০০ জনেরও বেশি মানুষ ভয়ংকর নীল কুমিরের শিকার হয়। তাদের বেশিরভাগই মৎসজীবী অথবা স্থানীয় মানুষ। আর এভাবেই নীলনদ মিশরীয় সভ্যতাকে দিয়েছে এক অনন্য তথা ঐতিহাসিক রূপ। তাই বলা যায় এই নীল নদ মিশরীয় সভ্যতার একমাত্র ধারক ও বাহক।

দেড়শ বছর আগেও আফ্রিকার অনেক অঞ্চলই ছিল ইউরোপীয়দের কাছে অনাবিষ্কৃত। ভূগোলবিদ আর পর্যটকদের কাছে তাই বরাবরই আফ্রিকা ছিল আকর্ষণীয়। বিশেষ করে নীল নদের উৎস ছিল এক মহারহস্য। সেটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করে বিফলও হয়েছেন অনেকেই। ১৮৫৬ সালে লন্ডনের রয়েল জিওগ্রাফিক্যাল সোসাইটি নীলের উৎস খুঁজে বের করতে এক অভিযানের বন্দোবস্ত করে। এরপর অনেক প্রচেষ্টার পর ১৯৬২ সালে হ্যানিঙ স্পেক নীল নদের উৎস খুঁজে বের করেন।

‘নীল নদের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, যা পৃথিবীর অন্য কোনো নদ-নদীর নেই।’ কথাটি বলেছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সেরা চিকিৎসক, গণিতজ্ঞ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং দার্শনিক ইবনে সিনা।

উৎপত্তিস্থল থেকে শেষ প্রান্তের মাঝে এর দূরত্ব সর্বাধিক। এই নদ প্রবাহিত হয় বড় বড় পাথর ও বালুময় প্রান্তরের উপর দিয়ে, যাতে কোন শ্যাওলা ও ময়লা-আবর্জনা নেই

নীল নদের পানিতে কোন পাথর বা কংকর সবুজ হয় না। বলাবাহুল্য যে, নীল নদের পানির স্বচ্ছতার কারণেই এই রকম হয়ে থাকে।  আর সব নদ-নদীর পানি যখন কমে যায়, এর নদের পানি তখন বৃদ্ধি পায়, আর অন্যসব নদীর পানি যখন বৃদ্ধি পায়, নীল নদের পানি তখন কমে যায়।

প্রচলিত মিথ অনুযায়ী, এক সময় নীল নদের পানি প্রবাহের জন্য এখানে সুন্দরী নারীকে উৎসর্গ করা হতো। ৬৪০ খ্রিষ্টাব্দের আগ পর্যন্ত মিশরীয়রা খ্রিস্টান ছিল। এ সময়ে মিশরের এই নীল নদ প্রতি বছর শুকিয়ে যেত। সেসময় মিশরীয়রা একটি কুসংস্কার মেনে চলত। সেটি ছিল শুকিয়ে যাওয়া নদীতে কোনো পিতামাতাকে রাজি করিয়ে তাদের সুন্দরী, ষোড়শী এবং কুমারী মেয়েকে অলংকার ও সুন্দর পোশাক পরিয়ে নীল নদের শেষ সীমানায় যেখানে ডুবন্ত পানি থাকত সেখানে ভাসিয়ে দেয়া হতো। 

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ফারুখ (রাঃ) খেলাফতের সময় বিখ্যাত সাহাবি হজরত আমর ইবনে আছা (রাঃ) নেতৃত্বে ইসলাম কায়েমের জন্য ৬৪০ খ্রিষ্টাব্দে মিশর বিজয়ী হয়।

এরপর তিনি মিশরের মানুষকে জানান যে ইসলাম কখনো এ ধরণের কুসংস্কার সমর্থন করে না। অন্যায়ভাবে কোনো মানুষের জীবন এভাবে জলাঞ্জলি দেয়া ইসলামে কখনোই বৈধ হবে না। কোথাও এভাবে নারী বলি দেয়ার নিয়মের বৈধতা নেই। এরপর হয়রত ওমর ফারুক র প্রচেষ্টায় এই কুসংস্কার বন্ধু হয়।


YouTube Video Link 

নীল নদ | পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নদ | Nile River: The Longest River on Earth.

আমাজন বন

আমরা যতই চাঁদ, মহাকাশ জয় করিনা কেন, পৃথিবীর অনেক রহস্যই আজো আমাদের অজানা রয়ে গেছে। আমাজন জঙ্গল এমনই একটি রহস্য। আমাজন জঙ্গল নিয়ে আগ্রহ নেই এমন মানুষ খুব কমই আছে। আর আগ্রহ থাকবেই বা না কেন! এই পুরো জঙ্গলটাই তো একটা রহস্য আর বিষ্ময়ে ভরপুর।

আমাজনকে রেইনফরেস্ট  বলা হলেও এর অর্থ কিন্তু এই না যে এখানে সারা বছর বৃষ্টিপাত হয়। বরং রেইনফরেস্ট বলা হয় এখানকার অত্যধিক আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত (বর্ষা মৌসুমে) এবং গরম আবহাওয়ার কারনে। প্রচন্ড গরমের কারনে এখানে বাষ্পীভবনের হার অনেক বেশি যা আর্দ্রতা এবং বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ার অন্যতম কারন।

আমাজান বন আমাজন নদীর অববাহিকায় পৃথিবীর সবচে বড় নিরক্ষীয় বন,যার আয়তন সাড়ে ৫ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার বা ৩.৪ মিলিয়ন বর্গ মাইল,পৃথিবী জুড়ে যে রেইনফরেস্ট রয়েছে তার অর্ধেকটাই হচ্ছে এই আমাজন বন

যদি এই রেইন ফরেস্টটি একটি দেশ হতো, তাহলে বিশালতার দিক থেকে এটি হতো বিশ্বের নবম বৃহত্তর দেশ। এই বন বাংলাদেশর তুলনায় ৩৮ গুন বড়। বৃটেন ও আয়ারল্যান্ডকে ১৭ বার এই ফরেস্টে রাখা যাবে।দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মোট আয়তনের ৪০% এই বনের দখলে। 

আমাজন দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের উত্তরভাগের ৯টি দেশের অন্তর্ভুক্ত। এর ৬০ ভাগ ব্রাজিলে, ১৩ ভাগ পেরুতে এবং বাকি অংশ কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, গুয়ানা, সুরিনাম এবং এবং ফরাসি গায়ানাতে অবস্থিত।

এ বনে রয়েছে ১২০ ফুট উঁচু গাছ, ৪০ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ, ২.৫ মিলিয়ন প্রজাতির কীট–পতঙ্গ, ১,২৯৪ প্রজাতির পাখি, ৩৭৮ প্রজাতির সরীসৃপ,আমাজনে ৪৫ লাখ প্রজাতির পোকামাকড় ৪২৮ প্রজাতির উভচর এবং ৪২৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীসহ হাজারো প্রজাতির অজানা জীব–অণুজীব।

পাশাপাশি আমাজন নদীতে ৩০০০ প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী আছে।আমাজন জঙ্গলের পেরুর অংশে একটি মাত্র গাছে ৪৩ হাজার প্রজাতির পিপড়া পাওয়া গিয়েছে।বিশ্বে খাবারের যে বৈচিত্র্য দেখা যায়, তার  ৮০ শতাংশই আসে আমাজন জঙ্গল থেকে। এছাড়া বর্তমানে যেসব ওষুধ তৈরি হয়, তার প্রায় ২৫ শতাংশ উপাদান আসে আমাজন থেকে।নানা রকম প্রজাতির বাসস্থান হিসেবে সমৃদ্ধ এই আমাজন।এই বনে প্রায় ১৬০০০ হাজার প্রজাতির ৩৯০ বিলিয়ন বৃক্ষ রয়েছে।

পর্তুগিজ অভিযাত্রীরা বিশ্বাস করত, বিশাল এ বনের মধ্যেই কোথাও লুকিয়ে আছে এলডোরাডো নামের এক গুপ্ত শহর। ধারণা করা হতো এই শহরটি পুরোটা স্বর্ণের। এই ভ্রান্ত ধারণাটি এসেছে গ্রিক পৌরাণিক গল্প থেকে।

সে গল্পে বলা হয়েছে, ‘এলডোরাডো’ নামক সোনায় মোড়ানো শহরটি পাহারা দেয় এক শ্রেণির বিশেষ নারী যোদ্ধারা। যাদের গল্পে ‘আমাজন’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। পর্তুগিজ, স্প্যানিশ এবং ফ্রেঞ্চ অভিযাত্রীরা প্রতিযোগিতায় নামে এই ‘এলডোরাডো’ শহর আবিষ্কারের জন্য। কিন্তু কেউ এই কাল্পনিক শহরের খোঁজ পায়নি। শহরের সন্ধান না পেলেও স্থায়ী হয়ে যায় সেই নারী যোদ্ধাদের নাম। তাদের নামানুসারেই এই জঙ্গলের নাম হয় আমাজন জঙ্গল।


সম্প্র্রতি বিজ্ঞানীরা বলছেন  অ্যামাজনের গাছের প্রজাতির সংখ্যার তালিকা তৈরি করতে তিনশ বছর লেগে যাবে। এরই মধ্যে জাদুঘরে রাখা ৫ লাখেরও বেশি উদ্ভিদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার প্রজাতির গাছের সংখ্যা আবিষ্কৃত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আরও প্রায় চার হাজার বিরল প্রজাতির উদ্ভিদের দেখা মিলতে পারে পৃথিবীর ফুসফুস খ্যাত বনে। ।

অ্যামাজনে আছে মাংসখেকো গাছ। এই গাছের আঠায় প্রজাপতি, ফড়িংয়ের  মতো ছোট প্রাণীরা আটকে যায়। তখন গাছের পাতা ঢেকে গিলে নিতে শুরু করে।আমাজনে আছে ‘লবস্টার ফ্লাওয়ার’। এই ফুলটি লম্বায় দেড় থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত হতে পারে।এর একেকটি পাতা ৬ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত প্রসারিত হয়। এ ছাড়া অ্যামাজনে ৩ হাজারেরও বেশি প্রজাতির অর্কিড রয়েছে। আছে রাবার গাছ। অ্যামাজন জঙ্গলের রাবার গাছগুলো একেকটা ১০ তলা বিল্ডিং এর সমান উঁচু হয়ে থাকে। চকো-বীন বা চকলেট উৎপাদনকারী গাছেরও ঠিকানা বনে।

 অ্যামাজনের গভীরে আছে কফি গাছ। দৈত্যাকার পদ্মফুলের দেখা মিলবে এখানে। ভিক্টোরিয়া অ্যামাজোনিকা অ্যামাজনের আরেক বিস্ময়। প্রায় ৩ ডায়ামিটারের এই পদ্মফুল শুধু এই বনেই গহিনেই দেখা মেলে।আছে ফুটন্ত গরম পানির নদী, বিষাক্ত ব্যাগ যার বিষ ১০ জন মানুষকে মেরে ফেলতে পারে।আছে ভয়ংকর মানুষখেকো পিরানহা,

এই আমাজন বনের ভেতরেই আছে আয়তনে পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম আমাজন নদী। এর প্রায় ১,১০০টি উপনদী আছে যার মধ্যে ১৭টির দৈর্ঘ্য ১০০০ মাইলের বেশি। এ নদ আমাজন অঞ্চলের প্রাণিবৈচিত্র্যের প্রধান উৎস 

বিশ্বের প্রায় বেশিরভাগ মিঠাপানির যোগান দেয় এই নদী। যা মোট পরিমানের ২৫ শতাংশ প্রায়। দীর্ঘতম নদীর দিক থেকে দ্বিতীয় হলেও বিশ্বের সবচেয়ে বেশী পানি বহন করে এই নদী। বলা হয়ে থাকে, যেখানে আমাজন নদীর পানি সাগরে মিলিত হয় সেখানে সাগরের প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সাগরের লবনাক্ত পানিও মিঠা পানি হয়ে যায়। বর্ষা মৌসুমে এ নদের মুখ  প্রায় ৩০০ মাইল চওড়া থাকে।

এই বনে ৩০০শ এর বেশি উপজাতি বাস করে। মোট ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর সংখ্যা ১০লাখেরও বেশি। তারা বেশির ভাগ ব্রাজিলীয়। এছাড়া তারা পর্তুগীজ, স্প্যানিস ভাষায়ও কথা বলে। এছাড়াও এদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। এদের মধ্যে কিছু যাযাবর। এদের বহিঃবিশ্বের সাথে তেমন যোগাযোগ নেই।

গবেষকদের মতে, এই বন প্রতি বছর ২০০ কোটি মেট্রিক টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে। সে কারণে একে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ নামে ডাকা হয়। তবে স্থানীয় অনেক সংস্থার অভিযোগ, সরকারি আইন অমান্য করে ব্রাজিলে  বন উজাড়ের হার অনেক বেড়ে গিয়েছে। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দেশটির স্পেস এজেন্সির তথ্য মতে, ২০১৯ সালের এপ্রিলের তুলনায় ২০২০ সালের এপ্রিলে বন উজাড়ের হার ৬৪ ভাগ বেশি। 

ফলাফল স্বরূপ এ বছরের প্রথমার্ধে বৃক্ষ নিধনের মাধ্যমে অ্যামাজনের বন উজাড়ের হার ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এদিকে ব্রাজিলের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট স্পেস রিসার্চের তথ্য মতে, গেল এপ্রিল মাসে প্রায় ৪০৫ বর্গকিলোমিটার বন নিঃশেষ হয়েছে। গত বছরের এপ্রিলে যার পরিমাণ ছিল ২৪৮ বর্গকিলোমিটার। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে উজাড় হয়েছে ১ হাজার ২০২ বর্গকিলোমিটার বনাঞ্চল।


YouTube Video Link 

রহস্যময় আমাজন বন | কি আছে এই আমাজনের গহীনে? Amazon: Largest Rainforest In The World |

রহস্যময় বারমুডা ট্রায়াঙ্গল

পৃথিবীতে যতগুলো রহস্যময় স্থান আছে, তার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল।সেই ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি রহস্যময় বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের কথা। আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে কোন জাহাজ বা প্লেন গেলে নাকি আর ফিরে আসেনা, এখানে গেলে সবকিছু উধাও হয়ে যায় অথবা হাওয়ায় মিলিয়ে যায়।


বারমুডা ট্রায়াঙ্গল কোথায়;

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল বা শয়তানের ত্রিভুজ একদম ঠিকঠাক আটলান্টিক মহাসাগরের কোথায় অবস্থিত তা নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে। একদল মানুষের মতে, এই ত্রিভুজ এলাকাটির এক প্রান্ত হলো পুয়ের্তো রিকোয়, আরেক প্রান্তে আছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহমা ও ফ্লোরিডার দক্ষিণাংশে, আর অন্য প্রান্তে হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বারমুডা দ্বীপপুঞ্জ। কেউ কেউ আবার এসব জায়গার সাথে মেক্সিকো উপসাগরকেও যুক্ত করেন।তবে লিখিত বর্ণনায় যে সাধারণ অঞ্চলের ছবি ফুটে ওঠে তাতে রয়েছে ফ্লোরিডার আটলান্টিক উপকূল, পুয়ের্তো রিকো, মধ্য আটলান্টিকে বারমুডার দ্বীপপুঞ্জ এবং বাহামা ও ফ্লোরিডার দক্ষিণ সীমানা যেখান ঘটেছে অধিকাংশ দূর্ঘটনা।


কেমন করে আবিষ্কৃত হলো এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল ? :

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল বিষয়ে যারা লিখেছেন তাদের মতে ক্রিস্টোফার কলম্বাস সর্বপ্রথম ১৪৯২ সালে এই ত্রিভুজ বিষয়ে অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা লিখেন। তিনি লিখেছিলেন তার জাহাজের নাবিকেরা এ অঞ্চলের দিগন্তে আলোর নাচানাচি, আকাশে ধোঁয়া দেখেছেন। এছাড়া তিনি এখানে কম্পাসের উল্টাপাল্টা দিক নির্দেশনার কথাও বর্ণনা করেছেন।

১৯৫০ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর ই. ভি. ডব্লিউ. জোন্স সর্বপ্রথম এ ত্রিভুজ নিয়ে খবরের কাগজে লিখেন। এর দু বছর পর ফেইট ম্যাগাজিনে জর্জ এক্স. স্যান্ড “সী মিস্ট্রি এট আওয়ার ব্যাক ডোর” শিরোনামে একটি ছোট প্রবন্ধ লিখেন। এ প্রবন্ধে তিনি ফ্লাইট নাইনটিন এর নিরুদ্দেশের কাহিনী বর্ণনা করেন এবং তিনিই প্রথম এই অপরিচিত ত্রিভূজাকার অঞ্চলের কথা সবার সামনে তুলে ধরেন।

১৯৬২ সালের এপ্রিল মাসে ফ্লাইট নাইনটিন নিয়ে আমেরিকান লিজান ম্যগাজিনে লিখা হয়। বলা হয়ে থাকে এই ফ্লাইটের দলপতি কে নাকি বলতে শোনা গিয়েছে- "আমরা কোথায় আছি জানি না, সবুজ বর্ণের জল, কোথাও সাদা কিছু নেই"। এতেই প্রথম ফ্লাইট নাইনটিনকে কোন অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার সাথে যুক্ত করা হয়। এরপর ভিনসেন্ট গডিস The Deadly Bermuda Triangle নামে আর এক কাহিনী লিখেন ১৯৬৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে।এই কাহিনীতে তিনিই প্রথম বারমুডা-ট্রায়াঙ্গেল শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।এর উপর ভিত্তি করেই তিনি আরও বিস্তর বর্ণনা সহকারে লিখেন "ইনভিজিবল হরাইজন" (Invisible Horizons) নামের বই। এছাড়া আরও অনেকেই বারমুডা ট্রায়াঙ্গল নিয়ে বই লিখেছেন। এরা সবাই ঘুরেফিরে এই এলাকায় যে অতি প্রাকৃতিক কোন কিছু অস্তিত্ব রয়েছে সেটাই উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন।


কেন এত রহস্যে মোরা এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল ? :

যখনই কোন বিমান বা জাহাজ বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল এ গিয়েছে , তখনই সে গুলো কিভাবে যেন হারিয়ে যায় কিংবা সেখান থেকে যদি ফিরেও আসে, তবুও মুখোমুখি হয় অদ্ভুত সব ঘটনার। কিছু ঘটনার কারনে এই রহস্য যেন আরো গভীর হয়ে উঠেছে।

মারি সেলেস্ত নামের একটি মালবাহী জাহাজ, ১৮৭২ সালের ৫ ডিসেম্বর, নিউইয়র্ক বন্দর থেকে রওনা হয়। অনেকদিন হয়ে যাওয়ার পরও জাহাজটি যখন গন্তব্যে পৌঁছায়নি, তখন শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। অনেক চেষ্টার পর জাহাজটিকে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল এলাকায় খুঁজে পাওয়া গেল ভাসমান অবস্থায়। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো জাহাজে সব মালপত্র, খাবার দাবার সবকিছু একদম অক্ষত ছিল, শুধুমাত্র ১১ জন কর্মী উধাও!

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়, মার্কিন সরকার ব্রিটিশদের সাহায্য করার জন্য ইউএসএস সাইক্লোপস নামক একটি জাহাজ পাঠায়। ১৯১৮ সালের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে জাহাজটি বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের কাছে এসে কোন চিহ্ন না রেখেই উধাও হয়ে যায় এর সাথে থাকা ৩০৬ জন ক্রু নিয়ে।ঠিক একই ভাবে একই জায়গা থেকে ১৯৪১ সালে গায়েব হয়ে যায় ইউএসএস প্রটিয়াস ও ইউএসএস নিরিয়াস নামের দুটি জাহাজ।

তবে জাহাজের ঘটনা গুলোর মাঝে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো, মেরিন সালফার কুইন নামক জাহাজটির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি। ১৫ হাজার টন গলিত সালফার আর ৩৯ জন ক্রু নিয়ে ১৯৩৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারিতে রওনা হয় জাহাজটি। ফেব্রুয়ারি ৪ তারিখে জাহাজটি যখন বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে অবস্থান করছিল তখন হঠাৎ রেডিও ট্রানস্মিশন অফ হয়ে যায়, অথচ অফ হয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ আগেও কমান্ডার বলছিলেন “কত সুন্দর আবহাওয়া ! কী চমৎকারভাবে নেভিগেশন চলছে !” এর পরপরই হঠাৎ করেই ৬০০ ফুটের বিশাল আকৃতির জাহাজটি একেবারে গায়েব হয়ে যায়।

এ তো গেল জাহাজের কথা, বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে আজ পর্যন্ত যা কিছু হারিয়ে গিয়েছে তার মাঝে সবচেয়ে বিস্ময়কর ও আলোচিত হল “ফ্লাইট নাইনটিন” নামক পাঁচটি বিমানের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া। ১৯৪৫ সালের ডিসেম্বরের শুরুর দিকে, ইউএস নেভির সেরা ৫ জন অ্যাভেঞ্জার বম্বার একটি প্রশিক্ষণ মিশনের জন্য রওনা হয়। রেডিওতে পাইলট বেজের সাথে প্রতিনিয়ত কথা বলছিলেন লেফটেন্যান্ট চার্লস টেলর। কিন্তু বিমান গুলো যখন বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলএ অবস্থান করছিল তখন কথা বলার একপর্যায়ে, পুরো বাক্য শেষ করার আগেই হঠাৎ চুপ হয়ে যায় সবকিছু, হঠাৎ যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল সব! সেই ৫ বিমানের সন্ধান আজও মেলেনি।


অবশেষে সমাধান হলো রহস্যের :

বারমুডা রহস্য উদঘাটন করার জন্য বিজ্ঞানীরা কম চেষ্টা করেননি বরং এখনও চলছে গবেষণা। প্রচুর গবেষণার পর ২০১৬ সালের ৪ মার্চ ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক একটি আর্টিকেল প্রকাশ করে, যার তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৩০০ টির মত জাহাজ আর ৭৫ টির মত বিমান নিখোঁজ হয়েছে এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে।

তবে বেশিরভাগ বিজ্ঞানীই বিশ্বাস করেন, এই সব ঘটনার পেছনে অতিপ্রাকৃতিক কোন কারণ নেই। বরং বৈরী আবহাওয়া, মানবঘটিত ভুল আর দুর্ভাগ্যের কারণে আসলে দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে। তারা যুক্তি দেখান যে, এই অঞ্চল আর দশটা সাধারণ দুর্ঘটনা প্রবণ অঞ্চলের থেকে আলাদা কিছু না।

সত্যি বলতে ইউরোপ, অ্যামেরিকা ও ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে চলাচলের জন্য, বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল পথেই পড়ে। তাই প্রতিদিনই অনেক জাহাজ আর বিমান কে ওই পথ পাড়ি দিতে হয়। আর বেশি চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার খবর গুলো একটু বেশিই শোনা যায়।

১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয় Larry kusche এর “The Bermuda Triangle Mystery : Solved “ বইটি। যুক্তিতে ভরপুর এই বইটিতে দেখানো হয়েছে যে, বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল নিয়ে বেশিরভাগ গল্পই ভুয়া এবং অতিরঞ্জিত। প্রমাণ সহকারে ল্যারি দেখান যে, বারমুডার বেশিরভাগ প্রচলিত দুর্ঘটনাই আসলে সেখানে নয় বরং অন্য কোথাও ঘটেছে। আর ট্রপিক্যাল সাইক্লোন প্রবণ অঞ্চলে জাহাজডুবি তো স্বাভাবিক ঘটনা।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল রহস্যের অনেকখানি কিনারা করা গেলেও, একে নিয়ে এখনও নতুন নতুন গুজব ছড়ানো বন্ধ হয়নি। হবেই বা কেন? সাহিত্য আর মিডিয়ার অর্থোপার্জনের অনেক বড় একটা পুঁজি এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল। যেহেতু কিছু রহস্যের আজও সমাধান হয়নি, তাই এখনো একে নিয়ে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই।


YouTube Video Link 

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের আসল রহস্য !! বাস্তবে কি আছে এখানে? Mystery Behind The Bermuda Triangle.

আমাজন নদী , বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রেইন ফরেস্ট আমাজন বনের ভেতরেই আছে আয়তনে পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম আমাজন নদী। একটা নদীর দৈর্ঘ্য কতই বা হতে পারে, ১০০০ বা ২০০০ কিলোমিটার? কিন্তু নদীটির দৈর্ঘ্য তার চেয়েও অনেক বেশি। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৪০০ কিলোমিটার।এই নদীর প্রস্থ ১৯০ কিলোমিটার বা ১২০ মাইল পর্যন্তও হয়ে যায় কখনও কখনও।এর প্রায় ১,১০০টি উপনদী রয়েছে, যার মধ্যে ১৭টির দৈর্ঘ্য ১০০০ মাইলের বেশি। এ নদী আমাজন অঞ্চলের প্রাণিবৈচিত্র্যের প্রধান উৎস।


 স্প্যানিশ এবং পর্তুগিজরা নদীটিকে এখন রিও আমাজনাস নামে ডাকে আর ইংরেজি অর্থ হলো আমাজন। এ নদী এতোই দীর্ঘ যে এটি গায়ানা, ইকুয়েডর, ভেনিজুয়েলা, বলিভিয়া, ব্রাজিল, কলম্বিয়া এবং পেরুতেও প্রবাহিত হচ্ছে। এ নদীর মুল উৎস হলো পেরুর অ্যান্ডিস পর্বতমালা। এটি নীলনদের (এটি প্রায় ৬৬৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ) পরে  বিশ্বের ২য় বৃহত্তম নদী।



আমাজন নদী দক্ষিণ আমেরিকার প্রায় ৩০০০ মাইল পাড়ি দিয়ে তিনটি দেশ বি পাড়ি দিয়ে হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে গিয়ে পড়েছে। এই নদী যে পরিমাণ জল ধারণ করে তা বিশ্বের যেকোন নদীর তুলনায় বেশি। আমাজন নদী যেখানে সাগরে গিয়ে মিশেছে সেখানে প্রতি সেকেন্ডে ৪.২ মিলিয়ন ঘন ফুট পানি সাগরে গিয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে এই পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘন ফুট।


এটি গড়ে প্রায় ২,০৯,০০০ ঘনমিটার প্রতি সেকেন্ড (৭৪,০০,০০০ ঘনফুট/সে) বহন করে সাগররে দিকে নিয়ে যায়, যা এর পরবর্তী সাতটি সম্পূর্ণ ভিন্ন নদীর পানির সমান। আমাজন নদী মোট বৈশ্বিক জলের প্রায় ২০ ভাগ জল সমুদ্রে বহন করে। আমাজনের অববাহিকা হল পৃথিবীর সর্ববৃহৎ পানি নিষ্কাষনকারী অববাহিকা।

বিশ্বের প্রায় বেশিরভাগ মিঠাপানির যোগান দেয় এই নদী। যা মোট পরিমানের ২৫ শতাংশ প্রায়। দীর্ঘতম নদীর দিক থেকে দ্বিতীয় হলেও বিশ্বের সবচেয়ে বেশী পানি বহন করে এই নদী। বলা হয়ে থাকে, যেখানে আমাজন নদীর পানি সাগরে মিলিত হয় সেখানে সাগরের প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সাগরের লবনাক্ত পানিও মিঠা পানি হয়ে যায়। বর্ষা মৌসুমে এ নদের মুখ  প্রায় ৩০০ মাইল চওড়া থাকে।

 এ নদের আয়তন আমেরিকার সবচেয়ে বড় নদী মিসিসিপির আয়তনের ১১ গুণ।বর্ষা মৌসুমে এ নদের মুখ আটলান্টিকের সঙ্গে যেখানে মিলিত হয় প্রায় ৩০০ মাইল চওড়া থাকে।এ নদের পানি প্রবাহের গতি এত বেশি যে, আটলান্টিকে প্রবেশের পর তা লোনা পানির সঙ্গে মেশার আগেই সমুদ্রের বুকে ১২৫ মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে।৫। প্রতিদিন ১০৬ মিলিয়ন ঘনফুট পলিমাটি আমাজনের পানির সঙ্গে আটলান্টিকে গিয়ে পড়ছে।

নদী মানেই সেখানে মাছের বসবাস। সেই নদী যদি হয় পৃথিবীর ২য় বৃহত্তম নদী, তাহলে তো মাছের রাজত্ব থাকার কথা। আমাজন নদীতে সত্যিকার অর্থেই মাছের রাজত্ব আছে। এই আমাজন নদীতেই আছে পৃথিবীর ২০ শতাংশ মাছ।

এখন পর্যন্ত এখানে প্রায় ৩০০০ প্রজাতির মাছ পাওয়া গিয়েছে। বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়তই আরও নতুন নতুন প্রজাতির মাছ আবিষ্কার করে চলেছে। আমাজনের অগভীর জলের মাঝে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সাপ অ্যানাকোন্ডা।

শুধু অ্যানাকোন্ডাই নয়, আমাজনে লুকিয়ে থাকা আরেকটি মাংসাশী মাছের নাম পিরানহা। পিরানহা বেশ ভয়ঙ্কর। নদীতে নামা শিকারকে এরা একইসাথে দলবেঁধে আক্রমণ করে। বলা হয় কোনো জীবিত প্রাণী পিরানহার ঝাঁকের আক্রমণের শিকার হলে কিছুক্ষণ পরে সেখানে শুধু ঝকঝকে নতুন কংকাল পাওয়া যায়।

YouTube Video Link:




Dead Sea । মৃত সাগর কি? এখানে কেন মানুষ ভেসে থাকে ?


‘ডেড সি’ নাম শুনলেই গা কেমন ছমছম করে ওঠে! মনে হয়, মৃত লোকদের এক সাগর,যেখানে ভাস লাশ! আসলে বিষয়টি কিন্তু মোটেও ভয়ংকর নয়; বরং ‘ডেড সি’ ভীষণ সুন্দর, ভ্রমণে যাওয়ার জন্য চমৎকার এক জায়গা। এই ‘ডেড সি’র পানি এতটাই ঘন যে ওই পানিতে কেউ চাইলে শুয়েও থাকতে পারে। শুধু তা-ই নয়, চাইলে  ওই পানি শুয়ে বইও পড়া যায়। কিংবা ল্যাপটপ নিয়ে নেট ব্রাউজও করা যাবে।সব কিছু যদি নরমাল হয় তাহলে এর নাম  ‘ডেড সি’ হলো‌ খেন?"

বাংলায় ‘মৃত সাগর’কে ইংরেজিতে বলা হয় ‘ডেড সি’ ।ডেড সির পশ্চিমে পশ্চিম তীর এবং ইসরায়েল, পূর্বে জর্ডান অবস্থিত।এই সাগরের পানির প্রধান উৎস জর্ডান নদী। মৃত সাগরের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ৬৭ কিলোমিটার ও প্রস্থ ১৮ কিলোমিটার আর গভীরতা ১.২৪০ ফুট। এই স্থানটি পৃথিবীর সবচেয়ে নীচু স্থান বা স্থলভূমি। মৃত সাগর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪২০ মিটার বা ১ হাজার ৩৭৮ ফুট নিচে অবস্থিত। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ২০ লাখ বছর আগে এ সাগরের উৎপত্তি। জর্দান নদীর সঙ্গে সংযুক্ত হলেও ডেডসি মূলত একটি হ্রদ।


কেন এই সাগরে মানুষ ভেসে থাকে বা ডোবেনা?

জিবুতির আসাল হ্রদের পর এটি বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লবণাক্ত হ্রদ।

এর লবণাক্ততা শতকরা ৩০% এবং এটি সমুদ্রের পানির চাইতে ৮.৬ গুণ বেশি লবণাক্ত।উচ্চ লবনাক্ততার দরুন যে কেউ মৃত সাগরের পানিতে ভেসে থাকতে পারে । এই আচরণ যুক্তরাষ্ট্র-এর ইউটাতে অবস্থিত গ্রেট সল্ট লেক এর মত।


স্বাস্থ্যগত প্রভাব

উচ্চ বায়ুমন্ডলীয় চাপ , শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকা রোগীদের জন্য বেশ উপকারী ডেড সির পরিবেশ।চর্মরোগ সোরিয়াসিস( psoriasis) এর জন্য দীর্ঘসময় সূর্যস্নান বেশ উপকারী । এই অঞ্চলের অতি বেগুনি রশ্মির স্বল্পতা সূর্যস্নানের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে বেশ সহায়ক ভূমিকা রেখেছে । এছাড়া রোগটি নিরাময়ে জন্য মৃত সাগরের লবণও বেশ উপকারী বলে বৈজ্ঞানিকদের গবেষণায় দাবী করা হয়েছে।


জীব ও উদ্ভিদ বৈচিত্র

বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মহাসাগরের পানির তুলনায় ডেড সির পানিতে মিশে থাকা খনিজ উপাদানগুলোর পার্থক্য রয়েছে। মৃত সাগরের পানিতে মিশে থাকা লবণে ১৪% ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, ৪% পটাশিয়াম ক্লোরাইড, ৫০% ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড এবং ৩০% সোডিয়াম ক্লোরাইড রয়েছে।মৃত সাগরের পানির ঘনত্ব ১.২৪ কেজি/লিটার। এই সকল উপাদানের কারণে ডেড সি’র পানির প্লবতা শক্তি পৃথিবীর অন্যান্য স্থানের পানির চেয়ে অনেক বেশি। 


প্লবতা শক্তির কারণে এই সাগরে কোনো কিছু ডুবে না। যে কেউ মৃত সাগরের পানিতে ভেসে থাকতে পারে। প্রাচীনকাল থেকে এই হ্রদটি মিশরের মমি তৈরির জন্য, সার উৎপাদনের জন্য পটাশসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক খনিজ পদার্থের উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই হ্রদ থেকে প্রাপ্ত লবণ ও খনিজ পদার্থ বিভিন্ন প্রসাধনী ও সুগন্ধি দ্রব্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।


ডেড সি’তে কোনো মাছ নেই, কারণ এই সাগরের পানিতে কোনো মাছ বাস করতে পারে না। তেমনিভাবে এর পাশে জর্ডান নদীতেও কোনো মাছ নেই। এই সাগরের পানিতে কোন উদ্ভিদ বা মাছ বাচতে পারে না বলেই মূলত এই সাগরকে ডেড সি বা মৃত সাগর বলা হয়ে থাকে। এই সাগরের পানিতে শুধুমাত্র সামান্য কিছু ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক অণুজীবের সন্ধান পাওয়া যায়। ডেড সি তীরবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে উট, খরগোশ, খেঁকশিয়াল এমনকি চিতাবাঘ দেখতে পাওয়া যায়। অতীতে জর্ডান নদীর বদ্বীপ অঞ্চলে প্যাপিরাস এবং পাম গাছে সমৃদ্ধ বনভূমি ছিল।


মৃত সাগর দিন দিন সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে এবং সত্যি সত্যিই মারা যাচ্ছে।

তিরিশ বছর আগে যখন ইজরায়েলের এনগেডি রিজর্টটি তৈরি হয়েছিল তখন ডেড সির পানি ছিল তার দেয়ালের গা ঘেঁষে.

কিন্তু এখন এই সমুদ্র এত দ্রুত সঙ্কুচিত হয়ে আসছে যে তার পানি দেখতে হলে পর্যটকদের জন্য তৈরি ট্রেনে করে পাড়ি দিতে হয় প্রায় ২ কিলোমিটার পথ।কিন্তু কেনো মৃত্যু ঘটছে ডেড সির?কারণটা হলো যে জর্ডান নদী থেকে এখানে পানি আসে, সেই নদীর পানি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।


যদিও ডেডসির সমস্যা সমাধানের একটি পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে।সেটা হলো, লোহিত সাগর থেকে মরুভূমির ওপর দিয়ে একটি পাইপলাইন তৈরি করে ডেডসিতে পানি আনা।যেই প্রকল্পটি হবে অনেক ব্যয়বহুল। তবে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ডেডসি হয়তো তার প্রান কিছুটা ফিরে পাবে।

YouTube Video Link :

Dead Sea । মৃত সাগর কি? এখানে কেন মানুষ ভেসে থাকে ? Why Does Everyone Float In Dead Sea?

ঘূর্ণিঝড়ের নাম কিভাবে রাখা হয়?

প্রতিবছর বঙ্গপসাগরে বেশ কিছু ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়।এর মধ্যে কিছু ঝড় নিম্নচাপ হয়ে আশপাশের দেশ যেমন ভারত বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের ভূখণ্ডে আঘাত এনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে, কিছু ঝড় আবার লঘুচাপ হয়ে সামান্য বৃষ্টিপাত ঝরিয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে কেটে যায়।যে নিম্নচাপ গুলো ভূখন্ডে আঘাত আনার সম্ভবনা থাকে তাদেরকে বিভিন্ন নাম দেয়া হয়।এই নাম গুলোর দেখে আমাদের মনে কৌতুহল জাগে কে কিভাবে এই নামগুলো দেয়। আমাদের আজকের এই পর্বে জানবো বঙ্গপসাগরে তৈরি হওয়া ঝড়ের নাম কিভাবে দেয়া হয়।

ঘূর্ণিঝড় (Cyclone)  ঘূর্ণিঝড় হলো গ্রীষ্মমন্ডলী ঝড় বা বায়ুমন্ডলীয় একটি উত্তাল অবস্থা যা বাতাসের প্রচন্ড ঘূর্ণায়মান গতির ফলে সংঘটিত হয়। এটি সাধারণ  প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহের একটি। পৃথিবীর ৩০º উত্তর এবং ৩০º দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চল গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত। 

দক্ষিণ আটলান্টিক এবং দক্ষিণ-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ব্যতীত পৃথিবীর বাদবাকি গ্রীষ্মমন্ডলীয় সাগরাঞ্চল যে মারাত্মক বায়ুমন্ডলীয় দুর্যোগসমূহ জন্ম দেয় তা সাধারণভাবে ঘূর্ণিঝড় হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর পৃথিবী জুড়ে গড়ে ৮০টি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।   



ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা কমপক্ষে ২৬-২৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস থাকা আবশ্যক এবং কমপক্ষে ৫০ মিটার গভীর পর্যন্ত এ তাপমাত্রা থাকতে হয়।এজন্য আমরা দেখি সাধারণত কর্কট ও মকর ক্রান্তিরেখার কাছাকাছি সমুদ্র গুলিতে গ্রীষ্মকালে বা গ্রীষ্মের শেষে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। অন্য কোথাও হয় না। 

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আঞ্চলিক কমিটিই ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে থাকে। বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলংকা এবং থাইল্যান্ডকে নিয়ে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার একটি প্যানেল বা কমেটি আছে যার নাম হচ্ছে 'স্কেপে'।উত্তর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট সব ঝড়ের নামকরণ করা হয় এই ৮ টি দেশের আগে থেকেই প্রস্তাব করা নামগুলো থেকে।

২০০০ সালে স্কেপের প্রস্তাবানুযায়ী প্রতিটি দেশ থেকে ১০টি করে নাম জমা নেওয়া হয়, এবং এখান থেকেই পরবর্তীতে সব ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা শুরু হয়।উত্তর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের সকল তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষন এবং পূর্বাভাসের দায়িত্ব প্রদান করা হয় ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগকে।তারাই ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ওই ৮টি দেশের প্রস্তাবিত নামগুলো থেকে সবার সাথে সম্বন্বয় করে ঘূর্ণিঝড়ের একটি নাম বেছে নেয়।

একের পর এক সৃষ্ট ঝড়ের নামকরণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক দেশের পাঠানো নামের তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে নামকরণ করা হয়। বেশ কিছুদিন আগের ঘূর্ণিঝড় 'তিতলি' নামটি পাকিস্তানের প্রস্তাব করা ছিল।ঘূর্ণিঝড় তিতলির একই সময়ে আরেকটি ঘূণিঝড় হয়েছে ওমানের দিকে, যার নাম লুবান। এই নামটি ওমান নিজেই প্রস্তাব করেছিল। এরপূর্বে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং আইলার নাম রেখেছিল যথাক্রমে ওমান এবং মালদ্বীপ।

অনেক সময় আমাদের মনে হয় ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ কেন মেয়েদের নামে করা হয়। আসলে সব সময় যে মেয়েদের নামে ঝড়ের নাম রাখা হয় তা কিন্তু না। নারী.পুরুষ এবং বস্তুগত নাম মিলিয়েই ঝড়ের নাম রাখা হয়।যেমন-সিডর,মহাসেন,কোমেন, মুরা,রুয়ানো, হুদহুদ ইত্যাদি।

বাংলাদেশ থেকে প্রস্তাব করা নামগুলো হলো - অনিল, অগ্নি, নিশা, গিরি, হেলেন, চপলা, অক্ষি, ফণী। মেয়েদের নামের সাথে মিলাতে গেলে এখানে ৩ টি নাম আছে মেয়েদের।পাকিস্তানের প্রস্তাব করা ৮টি নামের মধ্যে ৭টিই মেয়েদের নাম। যেমন নিলুফার, তিতলী, নার্গিস, লায়লা, কেইলা, ভারদা, নিলাম।এখন বুঝেন মেয়েদের নামে কেন ঝড়ের নাম বেশি হয়। 

ঝড় বা ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে তিনটি তিনটি তথ্য! 

⛔সাইক্লোন:মূলত দক্ষিণ-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর এবং ভারত মহাসাগর হতে উৎপন্ন ঝড়কে সাইক্লোন বলা হয়। 

⛔হ্যারিকেন: উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর এবং অ্যাটল্যান্টিক মহাসাগরে সৃষ্ট ঝড় সমূহকে বলা হয় হ্যারিকেন।

⛔টাইফুন: চীন ও জাপান সংলগ্ন প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপন্ন ঝড়কে টাইফুন বলা হয়। চীনা টাই-ফেং শব্দের অর্থ হলো ‘প্রচণ্ড বাতাস’।


ষাইট্টা বটগাছ: ৫০০ বছরের পুরনো ও বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম একটি বটগাছ।

ষাইট্রা ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামের নাম।আজ থেকে ৫০০ বছর আগে এই গ্রামে দেবীদাস বংশের পূর্বপুরুষ তাদের জমির ওপর একটি বট ও একটি পাকুড় গাছ রোপণ করেছিলেন। তৎকালীন সময়ে সনাতন ধর্ম বিশ্বাস অনুসারে বটগাছকে মহিলা আর পাকুড়-গাছকে পুরুষ ধরা হত।


সেই সময়ে দাসবংশের পূর্বপুরুষ ঢাকঢোল, বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ধর্মীয়ভাবে বট ও পাকুড় গাছের বিবাহ সম্পন্ন করেন। আর এই কারণেই স্থানীয়রা এই গাছ দুটিকে স্বামী-স্ত্রী বলে অভিহিত করেন।গাছের উপর থেকে বটের  শাখামূল ঝুলে,মাটির সঙ্গে মিশে গিয়ে এমন এক অদ্ভুদ রূপ ধারণ করেছে যেটা বর্ণনা দিয়ে বুঝানো অসম্ভব, যা শুধু স্বচক্ষেই দেখে অনুভব করা যাবে।


এই গাছকে ঘিরে আছে অনেক অলৌকিক ঘটনা।যেমন:

কার্তিক সরকার নামে এক কৃষকের জমিতে বটগাছের ডাল ছড়িয়ে পড়লে তিনি ডালটি কেটে ফেলেন, এরপর  তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ওই বটগাছের নিচে একটি মন্দির নির্মাণ করে সেখানে পূজা-অর্চনা করতে থাকেন, এবং এরপর তিনি সুস্থ হোন। 

এরপর থেকে ভয়ে এলাকার আর কেউ ওই গাছের ডালপালা কাটার সহস পায় না। ফলে গাছ দুটি বর্তমানে অসংখ্য ডালের মাধ্যমে অসংখ্য শিকড় ছেড়ে দিয়ে ৫ বিঘা জমি দখল করে বিশাল আকার ধারণ করেছে।


হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বিশ্বাস করেন এই গাছ দুটি তাদের দেবতা। তাই তারা বটগাছটির নিচে কালীমন্দির নির্মাণ করে সেখানে কালী, সরস্বতী, বুড়ির পূজা এবং দশমী ও বাসন্তী মেলাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে থাকে। নানা অসুখ-বিসুখে মানত করে সুস্থ হয়েছেন এমন সফলতার গল্পও অনেক রয়েছে।

ওইতো দেখা যাচ্ছে বিশাল ষাইট্রা বট গাছ। এই গাছের ডালগুলো চারপাশে এমন ভাবে ছড়িয়ে আছে, ভেতরে গেলে মনে হবে এটি একটি বাড়ি,আর মাথার উপরের ডালগুলো হচ্ছে ছাদ। খুব ঘন ডাল এবং পাতার কারণে সূর্যের আলো এখানে খুব কমই পৌছাতে পারে।


স্থানীয় পরিবেশ খুবই সুন্দর। সত্যিকারের গ্রামীণ পরিবেশ চোখে পড়বে এ গ্রামের আনাচে কানাচে। পিচ ঢালা পাকা রাস্তা, তার দুইপাশে চিরায়ত গ্রাম, ধান-গম-ভুট্টা-আখ প্রভৃতির ক্ষেত, রয়েছে প্রচুর লেবু ও কলার বাগান।

কিভাবে যাবেন:

ষাইট্টা বটগাছ যেতে হলে প্রথমে আসতে হবে ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ডে।ঢাকা থেকে ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ডে আসতে ভাড়া নিবে ৬০ টাকা। এরপর রাস্তার উত্তর পাশে গিয়ে ধানতার গামি যেকোন গাড়িতে উঠতে হবে।


ঢুলিভিটা থেকে ধানতারা বাজারে আসতে সময় লাগবে ১ঘন্টা,আর ভাড়া হচ্ছে ৩০ টাকা।ধানতারা বাজারের একটু দক্ষিণ দিকে গেলে ষাইট্টা বটগাছ যাওয়ার এই ভ্যানগুলো পাওয়া যাবে।এই ভ্যানে করেই ষাইট্রা বটগাছের কাছাকাছি গিয়ে নামতে হবে।

ষাইট্টা বটগাছ নিয় আমার ইউটিউব ভিডিও লিংক:

ষাইট্টা বটগাছ: ৫০০ বছরের পুরনো ও বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম একটি বটগাছ


'গোলাপ গ্রাম' (Golap Gram): যেন গোলাপের এক স্বর্গ রাজ্য

গ্রামের বুক চিরে চলে গেছে আঁকাবাঁকা সরু পথ। তার দু’পাশে বিস্তীর্ণ গোলাপের বাগান। ফুটে আছে টকটকে লাল গোলাপ। পুরো গ্রামজুড়েই ফুলের সৌরভ। দৃশ্যগুলো দেখার সময় ফুলের বাগানে ঝাঁপিয়ে পড়তে ইচ্ছে করে! সবমিলিয়ে মুগ্ধ হবার মতো একটি জায়গা।এটি ছিল আমাদের আজকের গন্তব্য গোলাপ গ্রাম এবং তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা।


আমরা এখন আছি সাভার বাসস্ট্যান্ডে। সাভার বাসস্ট্যান্ডের রাস্তার পূর্বে অন্ধ সংস্থা মার্কেট ও চৌরঙ্গী মার্কেটের মাঝে একটি রাস্তা রয়েছে,এই রাস্তা দিয়েই সরাসরি গোলাপ গ্রাম যাওয়া যায়।এখান থেকে গোলাপ গ্রাম যাওয়ার জন্য কয়েক ধরনের গাড়ি পাওয়া যায়,এর মধ্যে একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, এই অটোরিকশা দিয়েই আমার আজকে গোলাপ গ্রাম যাচ্ছি।


ঢাকার কাছে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে সাদুল্লাপুর গ্রাম অবস্থিত। তুরাগ নদীর তীরের সাদুল্লাপুর গ্রামটিই বর্তমানে গোলাপ গ্রাম হিসাবে পরিচিত। নানা রঙের গোলাপ ফুল দিয়ে ঘেরা পুরো সাদুল্লাহপুর গ্রামটিকে একটি বাগান মনে হয়।সাদুল্লাহপুরকে এখন পর্যটকরা 'গোলাপ গ্রাম' হিসেবেই বেশি চেনেন।

রাস্তা ধরে একটু সামনে হাটলেই চোখে পড়বে অসংখ্য গোলাপ বাগান। আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় আপনি যখন দেখতে পাবেন আপনার দুপাশে বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে গোলাপের বাগান, যেখানে ফুটে আছে লাল টুকটুকে অগুনিত গোলাপ ফুল,এই দৃশ্য দেখে আপনার মনে হতেই পারে আপনি কোন গোলাপের স্বর্গ রাজ্যে চলে এসেছেন। 

আপনি চাইলে বাগানে ভিতরে গিয়ে বসতে পারেন বা ছবি তুলতে পারেন।তবে বাগানের ভিতরে প্রবেশ করতে হলে আপনাকে সেই বাগান থেকে ফুল কিনতে হবে,না হলে ভেতরে যেতে পারবেন না, এমনকি অনেক সময় পাশ হেটেও যেতে পারবেন না।


সকালে গোলাপের বাগান গুলোতে কাউকে কোনো কাজ করতে দেখা যায় না। তবে দুপুরের পর প্রতিটি বাগানেই শ্রমিকদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। ফুল কাটা, ফুল বাছাই, ফুল ভেজানো, ফুল বাঁধা সবই কিছু কৃষক শেষ করেন সন্ধ্যার আগে। কারণ সন্ধ্যোর পর পরই বসে মোস্তাপাড়া ও শ্যামপুর ফুল বাজার। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য ব্যবসায়ী এসে ভিড় জমান সেখানে। জমতে থাকে বেচাকেনা। চলে গভীর রাত পর্যন্ত। 

এখানে সাধারণত মিরান্ডা জাতের গোলাপে চাষ বেশী হয়।এখান থেকে চাইলে পছন্দমতো গোলাপ কিনে নিতে পারেন। তবে এরা সাধারণত খুচরা গোলাপ বিক্রি করতে চায় না।এখানকার গোলাপ ফুল ঢাকার তুলনায় অনেক স্বতা। ১০০ শত গোলাপ কিনতে আপনার খরচ হতে পারে ৩-৪ শত টাকা।


এখানে যে শুধু গোলাপ ফুলেই চাষ হয় তা কিন্তু না।গোলাপ গ্রাম হিসাবে পরিচিতি পেলেও সাদুল্লাহপুর গ্রামে জারভারা, গ্লাডিওলাস এবং রজনীগন্ধা সহ আরো কয়েকধরেন ফুলের চাষ হয়। তবে গোলাপ ফুল চাষের তুলনায় অন্য ফুলের চাষ হয় অনেক কম। ঢাকার শাহবাগসহ অন্যান্য ফুলের বাজারের চাহিদা মেটানোর প্রধান যোগানদাতা হচ্ছে সাদুল্লাহপুর গোলাপ গ্রাম। 

কখন আসবেন এখানে,

গোলাপ ফুল দেখার জন্য শীতের সময়টা হচ্ছে এখানে আসার উপযুক্ত সময়।তবে এই এলাকার খোলামেলা এবং নীরব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে আমার মনে হয়েছে গ্রীস্মের সময়ে এখানে আসলে আলাদা একটা সৌন্দর্য দেখা যাবে।


কোথায় খাবেন:

এখানে ভালো মানের কোন রেস্টুরেন্ট‌ আমার চোখে পড়েনি। সবচেয়ে ভালো হয় আসার সময় সাথে খাবার নিয়ে আসলে, আপনি চাইলে যেকোন গাছের ছায়ার নিচে বসে চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে দেখতে খেতে পারেন, ভালো লাগবে।


কিভাবে যাবেন:

ঢাকা ও তার আশপাশ থেকে যেতে পারবেন অনেক ভাবেই। মিরপুর ১, মিরপুর ১০ কিংবা গাবতলী থেকে রিকশা বা সিএনজি করে দিয়াবাড়ি বটতলা ঘাট আসতে পারবেন। দিয়াবাড়ি ঘাট থেকে শ্যালো ইঞ্জিনের বিভিন্ন নৌকা ১০ মিনিট পরপর সাদুল্লাপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। লোকাল ইঞ্জিন নৌকা ভাড়া জনপ্রতি ২৫ টাকা করে, সময় লাগতে পারে ৩৫-৪০ মিনিটের মতো।


গোলাপ গ্রাম নিয়ে আমার ভিডিও:

গোলাপ গ্রাম (Golap Gram):যেন গোলাপের এক স্বর্গ রাজ্যQRA





পাপের শহর লাস ভেগাস

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যের একটি শহর হচ্ছে লাস ভেগাস। সারা বিশ্বে এটি প্রমোদ নগরী হিসেবে বিখ্যাত। এই শহরকে মনোরঞ্জনের রাজধানীও...