Showing posts with label ইতিহাস ও ঐতিয্য. Show all posts
Showing posts with label ইতিহাস ও ঐতিয্য. Show all posts

আদম পাহাড়, শ্রীলঙ্কা

 আল্লাহতায়ালা হজরত আদম আলাইহিস সালামকে জান্নাত থেকে দুনিয়াতে পাঠানোর পর তিনি ফেরেশতাদের সাহায্যে বর্তমান শ্রীলঙ্কার ‘সেরেনদ্বীপে’ আসেন। বঙ্গোপসাগর ও ভারত সাগরের মাঝামাঝি স্থানে দ্বীপটি অবস্থিত। ২৫/৩০ মাইল দূর থেকে পাহাড়টি দেখা যায়। এ পাহাড়ের ঠিক মাঝ বরাবর সবচেয়ে উঁচু স্থানটিকে অবস্থিত পৃথিবীর প্রথম মানব হজরত আদম (আ.) এর পদচিহ্ন।পাহাড়টি এ্যাডামস পিক নামে এখন পরিচিত। 


এই জায়গাটি খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলিম এই চার ধর্মের অনুসারীদের কাছে অতি পবিত্র স্থান। এই পায়ের ছাপ  এর দৈর্ঘ্য ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ২ ফুট ৬ ইঞ্চি। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন এই পদচিহ্নটি গৌতম বুদ্ধের, হিন্দুরা বিশ্বাস করেন এই পদচিহ্নটি তাদের দেবতা শিবের, এবং মুসলমান ও খ্রিষ্টানরা বিশ্বাস করেন এটি পৃথিবীর প্রথম মানব আদম -এর।

মুসলমান ও খ্রিস্টানদের বিশ্বাস পৃথিবীর প্রথম মানুষ মানব জাতির আদি পিতা হজরত আদম নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণের কারণে আল্লাহ কর্তৃক স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হন এবং এখানে প্রথম পৃথিবীতে নামেন। মুসলমানদের মতে আদম ৯০ ফুট লম্বা ছিলেন। আদম পৃথিবীতে এসে চরম অণুতপ্ত হয়ে পড়েন এবং তার ভুলের জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থণা করতে থাকেন। তখন তিনি ভুলের প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ এক পায়ে হাজার বৎসর দাড়িয়ে থাকেন এবং কান্না-কাটি করতে থাকেন। তার ফলস্বরূপ এখানে তার পবিত্র পায়ের পদচিহ্ন এর দাগ পড়ে যায়।থিবীর প্রথম মানব হজরত আদম (আ.)-এর নাম জানো, তাঁর নামেই নামকরণ হয়েছিল এই পাহাড়ের। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, হজরত আদম (আ.)-এর ডান পায়ের চিহ্নটা কেবলামুখী অর্থাৎ পবিত্র কাবার দিকে ফেরানো।  

বৌদ্ধ ধর্মমতে খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দে পায়ের ছাপটি আবিষ্কার হয়। আবিষ্কৃত হবার পর পদচিহ্নের চারপাশে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। এই চূড়ার উচ্চতা ৭৩৫৯ ফুট বা ২২৪৩ মিটার। চূড়াটির চারপাশে সবুজের বিপুল সমারোহ ও আশেপাশে রয়েছে অসংখ্য ছোট নদী ও ঝরণা।

এই স্থানে বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত সূর্যের আলো পড়ে না আবার মে থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত মেঘের ঘনঘটা বা বৃষ্টিও সেখানে পড়ে না।এই পায়ের চিহ্নটি সংরক্ষণের জন্য শ্রীলঙ্কা সরকার একটি চার কোণা বিশিষ্ট বিল্ডিং তৈরি করেছে। সেখানে প্রবেশের জন্য রয়েছে একটি শক্ত লোহার গেট।

পাহাড়টি সুউচ্চ হওয়ার কারণে সেখানে পৌঁছানো খুবই কষ্ট সাধ্য। সেখানে পৌছাতে হলে প্রথমে নৌকায় চড়ে কিছু পথ যেতে হয়, তারপর পায়ে হেঁটে উঁচু পাহাড়ে উঠতে হয়। পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছানোর জন্য পাহাড়ের গা বেয়ে তিনটি রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও পাহাড়টির অনেকাংশ সবুজ গাছে ঢাকা থাকার কারণে এই পাহাড়ে রয়েছে অনেক বিষাক্ত সাপ ও পোকামাকড়।এ পাহাড়ে আরোহণ করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছার পথ গভীর জঙ্গলের ভিতর দিয়ে। সেই জঙ্গল নানারকম ঝুঁকিপূর্ণ। তবে চূড়ার কাছাকাছি একটি ধাতব সিঁড়ি আছে। তাতে রয়েছে ৪ হাজার ধাপ। এখানে পৌঁছতে সময় লাগে কমপক্ষে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা।  

বছরে মাত্র তিন থেকে চার মাস এ পাহাড়ে আরোহণ করা যায়। বছরের অন্য সময়টাতে এতে আরোহণ অসম্ভব। কারণ, এ পাহাড় তখন লুকিয়ে যায় মেঘের ভেতর। চারদিক থেকে মেঘে জেঁকে ধরে অদৃশ করে ফেলে পাহাড়টাকে।

বিশ্বের যেসব নামকরা পর্যটক এই চূড়াটি ভ্রমণ করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইবনে বতুতা ও মার্কো পোলো। ১৫০৫ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে এসেছিলেন পর্তুগিজ এক নাগরিক। তিনি এ পাহাড়কে বলেছেন পিকো ডি আদম। সেই থেকে এই পাহাড়ের নাম আদম পাহাড়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই পায়ের ছাপটি  অবিকল রয়ে গেছে।


YouTube Link: দম আঃ এর পায়ের চিহ্ন। আদম পাহাড় শ্রীলঙ্কা । আদম পাহাড়ের ইতিহাস।

পবিত্র কাবা শরিফের ইতিহাস

সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র স্থান  মসজিদুল হারাম।এই মসজিদের কেন্দ্রেই রয়েছে পবিত্র কাবা শরিফ। কাবা শরিফ মুসলমানদের কিবলা, অর্থাৎ যেদিকে মুখ করে মুসলিমরা সালাত আদায় করে। হজ বা উমরা পালনের সময় মুসলমানরা কাবাকে ঘিরে তাওয়াফ করে।

মসজিদুল হারাম, মক্কার হারাম এলাকায় কাবাঘরকে কেন্দ্র করে নির্মিত মসজিদ। এই এলাকাকে হারাম বলার কারণ হচ্ছে, ইসলাম আগমনের অনেক বছর আগে থেকেই এই এলাকায় হত্যাসহ যেকোন অপকর্ম নিষিদ্ধ ছিল।


হারাম এলাকার প্রাণকেন্দ্র হলো মসজিদুল হারাম, আর এই মসজিদের কেন্দ্রস্থলে কালো বর্ণের ঘরটিই হলো কাবা শরীফ শরিফ বা মহান আল্লাহর সম্মানিত কাবাঘর।


পৃথিবীতে সর্বপ্রথম মহান আল্লাহ নির্দেশে ফেরেশতারা কাবাঘর নির্মাণ করেন। কাবাঘরকে উল্লেখ করে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনের সুরা আল-ইমরানের ৯৬ নাম্বার আয়াতে বলেন, “নিশ্চই সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের ইবাদত রূপে নিরূপিত হয়েছে, তা ঐ ঘর যা মক্কাতে অবস্থিত”।

এরপর হযরত আদম (আঃ) আল্লাহ তায়ালার আদেশে কাবা শরীফ পুনঃনির্মাণ করেন।

হজরত নূহ (আ.)-এর সময় সংঘটিত মহাপ্লাবনের পর হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর ছেলে হজরত ইসমাইল (আ.) আল্লাহর নির্দেশে পুনরায় কাবাঘর সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করেন। ইবরাহিম (আ) কাবার পূর্ব কোণে হাজরে আসওয়াদ পাথর স্থাপন করেছিলেন, যা হাদিস অনুযায়ী বেহেশত থেকে আগত। এই পাথর একসময় দুধের মত সাদা ছিল কিন্তু মানুষের গুনাহ শোষণ করার কারণে এটি কালো হয়ে গিয়েছে।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়ত প্রাপ্তির ৫ বছর আগে কাবাঘর সংস্কার করে মক্কার বিখ্যাত কোরাইশ বংশ। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) জীবিত অবস্থায় ৬ হিজরীতে আব্দুলাহ ইবনে জোবায়ের (রাঃ) কাবা শরীফ সংস্কার করেন। এরপর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ৭৪ হিজরীতে কাবা শরীফ সংস্কার করেন।

৪১৬ হিজরিতে বাদশাহ ফাহদ কাবার বাইরের দেয়াল সংস্কার করেন। ১৪১৭ হিজরিতে তিনি কাবাগৃহের ছাদ, খুঁটি, দেয়ালসহ সব কিছু সংস্কার করে নতুন ধাঁচে ঢেলে সাজান। 

এর পর থেকে নির্মাণের পরিবর্তে কাবা শরিফের সংস্কারকাজ অব্যাহত রয়েছে। ৯১ হিজরিতে উমাইয়া খলিফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিক কাবাগৃহে ব্যাপক সংস্কার করেন।তাঁর এ নির্মাণকাজকে কাবার সর্বশেষ নির্মাণ বা সর্বশেষ সংস্কার হিসেবে অভিহিত করা হয়। এযাৎ কাবা শরিফ ১২ বার সংস্কার করা হয়েছে। 

সৌদি গেজেট মতে, কাবাগৃহের উচ্চতা পূর্ব দিক থেকে ১৪ মিটার।  পশ্চিম দিক থেকে ১২.১১ মিটার। উত্তর দিক থেকে ১১.২৮ মিটার। দক্ষিণ দিক থেকেও ১২.১১ মিটার।

ভূমি থেকে কাবার দরজার উচ্চতা ২.৫ মিটার। দরজার দৈর্ঘ্য ৩.০৬ ও প্রস্থ ১.৬৮ মিটার। বর্তমান দরজা বাদশা খালেদের উপহার, যা নির্মাণে প্রায় ২৮০ কিলোগ্রাম স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়েছে। 

কাবা শরীফের সিলিংকে তিনটি কাঠের পিলার ধরে রেখেছে। প্রতিটি পিলারের ব্যাস ৪৪ সে.মি.। 

পিলারের কাঠগুলো এতই শক্ত প্রকৃতির যে, এর মতো বিকল্প কাঠ পাওয়া যায় না। এগুলো প্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর (রা:) স্থাপন করেছিলেন। বর্তমানে এ কাঠনির্মিত খুটির বয়স ১ হাজার ৩৫০ বছর।

কাবা শরিফের ভেতরের দেয়ালগুলো সবুজ ভেলভেটের পর্দা দিয়ে আবৃত। এই পর্দাগুলো প্রতি তিন বছর অন্তর অন্তর পরিবর্তন করা হয়।

কাবা ঘরের গিলাফের রঙ কখনোই কালো ছিল না। বর্তমানে কাবা ঘরের গিলাফের রঙ কালো ব্যবহার করা হয়। আব্বাসীয় খলিফাদের পরিবারের প্রিয় রঙ ছিল কালো। তাদের সময় থেকে কাবা ঘরে কালো গিলাফ পরানো হয়। এর আগে কাবা ঘরে সবুজ, লাল ও সাদা রঙের গিলাফ ব্যবহার করা হতো।

কাবা ঘরের ভেতরে যে কোনো দিকে ফিরেই নামাজ আদায় করা যায়। তাতে কোনো বিধি-নিষেধ নেই।আবার কাবা ঘরের বাইরে যে কোনো পাশে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া যায়।

দেয়ালের ওপরের অংশে রয়েছে সাঁটানো সবুজ রেশমি কাপড়। তাতে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত স্বর্ণখচিত করে অঙ্কিত। বছরে দুইবার কাবাঘর পরিষ্কার করা হয়। পরিষ্কার করতে ব্যবহৃত হয় জমজমের পানি, খাঁটি গোলাপ জল এবং উন্নত মানের সুগন্ধি উদ। কাবার গিলাফ তৈরি করা হয় ৬৭০ কেজি রেশম দিয়ে। গিলাফের ওপর দিকে সোনার প্রলেপকৃত রুপার চিকন তার দিয়ে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ক্যালিগ্রাফিখচিত করা।

 মোট পাঁচ টুকরা গিলাফ বানানো হয়। চার টুকরা চারদিকে এবং পঞ্চম টুকরাটি কাবার দরজায় লাগানো হয়। টুকরাগুলো মজবুতভাবে সেলাইযুক্ত। 

মক্কা বিজয়ের পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাবা ঘরের চাবি বনি শায়বাহ গোত্রের ওসমান ইবনে তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে হস্তান্তর করেন। বংশ পরম্পরায় এখনো তারাই কাবা ঘরের চাবির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

কাবাঘরের ৪টি কোণের আলাদা নাম আছে

(১) হাজরে আসওয়াদ (২) রুকনে ইরাকী (৩) রুকনে শামী ও (৪) রুকনে ইয়ামেনী।


১৯৪১ সালে সপ্তাহব্যাপী প্রবল বৃষ্টির কারণে কাবা চত্বরসহ মক্কার বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। আর সে সময় কাবা ঘর জিয়ারতকারীদের কেউ কেউ সাঁতার কেটে কাবা ঘর তাওয়াফ করেন। সেসময় সপ্তাহব্যাপী বৃষ্টির কারণে কাবা চত্বরে প্রায় ৬ ফট পানি জমে যায়।

কাবা ঘরের পাশেই আছে মাকামে ইব্রাহিম নামের একটি অলৌকিক পাথর। কাবা শরিফের পূর্ব-উত্তর পাশে সোনালি বেষ্টনীতে পায়ের ছাপযুক্ত যে পাথরখণ্ডটি সংরক্ষিত রয়েছে তা হলো মাকামে ইব্রাহিম। মাকাম অর্থ স্থান বা দাঁড়ানোর জায়গা। এ পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে হজরত ইব্রাহিম (আ.) কাবাঘরের প্রাচীর গাঁথতেন

বেহেশতি একটি পাথর হলো হাজরে আসওয়াদ। আসওয়াদ মানে কালো, হাজর মানে পাথর। এই কালো পাথরটি হজরত আদম (আ.) জান্নাত থেকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। এই পবিত্র পাথরের দৈর্ঘ্য ৮ ইঞ্চি ও প্রস্থ ৭ ইঞ্চি। বর্তমানে এটি ছোট ছোট ১২টি খণ্ডে বিভক্ত, এর ৮ টুকরা দৃশ্যমান। বর্ণিত আছে, এটি কিয়ামতের দিন তাকে স্পর্শকারী বা চুম্বনকারীর পক্ষে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে। 

অনেকদিন ধরেই কাবা ঘরের বিভিন্ন ধরনের বিশেষ তালা ও চাবির ব্যবহার হয়ে আসছে। দীর্ঘ দিন পরপর পরিবর্তন করা এসব তালা কিংবা চাবি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এখন পর্যন্ত কাবা শরিফে ৫৮টি তালা-চাবির নিবন্ধনের তথ্য পাওয়া যায়।যার মধ্যে তুরস্কের সাবেক রাজধানী ও প্রাচীন শহর ইস্তাম্বুলে তোপকাপি জাদুঘরেই রয়েছে ৫৪টি চাবি।

প্রথমে কাবা শরিফ কিবলা ছিল না। বরং প্রথম কিবলা ছিল জেরুজালেমে অবস্থিত মসজিদুল আকসা। মদীনায় হিজরতের ষোল মাস পর কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী কিবলা পরিবর্তিত হয়ে বর্তমানের কিবলা অর্থাৎ কাবা শরীফ কিবলা হিসেবে নির্ধারিত হয়।

কাবাঘরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সৌদি রাজপরিবারের। সৌদি সরকারের প্রধান (বাদশাহ) কাবা শরীফের মোতায়াল্লির দায়িত্বে থাকেন


YouTube Video Link

পবিত্র কাবা : ইতিহাস ও অজানা তথ্য |

স্টাচু অব লিবার্টি

আমেরিকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সবচেয়ে বড় নিদর্শনগুলো একটি স্টাচু অব লিবার্টি। শত বছর ধরে আটলান্টিক সাগরের পাড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে স্ট্যাচু অব লিবার্টি। আমাদের আজকের এই পর্ব স্টাচু অব লিবার্টি নিয়ে।

যলিও আমরা এই স্থাপনাটিকে স্ট্যাচু অব লিবার্টি জানি, কিন্তু এর আসল নাম কিন্তু স্ট্যাচু অব লিবার্টি না। ১৯২৪ সাল পর্যন্ত একে 'লিবার্টি এনলাইটেনিং দ্য ওয়ার্ল্ড' নামে ডাকা হতো। পরবর্তীতে এর নাম হয়স্ট্যাচু অব লিবার্টি “


রোমান দেবী লিবার্টাসের আদলে এক নারীর অবয়ব মূর্তিটি হচ্ছে স্ট্যাচু অব লিবাটি। এই ভাষ্কর্যটির বাইরের নকশা করেছেন ফরাসি স্থপতি ফ্রেডরিক বার্থোল্ডি এবং এর ভেতরের নকশা করেছেন আরেক ফরাসি স্থপতি গুস্তাভ আইফেল,যাকে আমরা আইফেল টাওয়ারের নকশাকারী হিসেবে জানি।

স্ট্যাচু অব লিবার্টি আসলে ছিল ফ্রান্সের জনগণের পক্ষ থেকে মার্কিনীদের জন্য একটি উপহার। ১৭৬৫ সাল থেকে ১৭৮৩ সাল পর্যন্ত চলা আমেরিকান বিপ্লবের সময়ে ব্রিটেনের কাছ থেকে আমেরিকার স্বাধীনতার সংগ্রামে সাহায্য করেছিল ফ্রান্স। সেই সহযোগিতার স্মৃতি হিসেবে আমেরিকার স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তিতে ১৮৮৬  ফ্রান্স এই ভাস্কর্যটি আমেরিকাকে উহার দেয়।

আমেরিকার নিউইয়র্ক লিবার্টি দ্বীপে স্টাচু অব লিবার্টি স্থাপন করা হয়। কারণ তৎকালীন সময়ে বহু ইউরোপীয় অভিবাসী নিউইয়র্ক বন্দরের মাধ্যমে আমেরিকায় প্রবেশ করছিল। এই ভাষ্কর্যটি সেইসব অভিবাসীদেরকে আমেরিকায় স্বাগত জানাত।

বর্তমানে লিবার্টি আইল্যান্ড নামে পরিচিত এই দ্বিসটির পূর্ব নাম ছিল “বেডলে আইল্যান্ড”,১৯৫৬ সালে এর নাম পরিবর্তন করা হয়।।প্রতিবছর প্রায় ৩০-৪০ লাখ মানুষ এই ভাস্কর্য দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আসেন।

একহাতে একটি মশাল এবং অপরহাতে একটি বই হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে “স্ট্যাচু অব লিবার্টি” নামের এই স্থাপনাটি। স্ট্যাচু অব লিবার্টি একহাত দিয়ে যে বইটি ধরে রেখেছে সেই বইয়ের ওপরে লেখা আছে একটি তারিখ, আর তা হল “৪ জুলাই, ১৭৭৬”। এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণার তারিখ।এই তারিখেই ব্রিটিশ শাসন থেকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীন হয়েছিল।তার পায়ের পায়ে একটি ভাঙ্গা শিকল দেখা যায়, যেটা তৎকালীন সময়ের দাসপ্রথা বিলুপ্তির প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে।

শুরু থেকেই স্ট্যাচু অব লিবাটি কে নিউইয়কের হাডসন নদীতে বসানোর পরিকল্পনা ছিল না। ভাষ্কর্যটির স্থপতি ফ্রেডরিক বার্থোল্ডি মূর্তিটি নকশা করেছিল মিশরের সুয়েজ খালের পাড়ে স্থাপনের জন্য। কিন্তু বিভিন্ন কারণে মিশর এই ভাষ্কর্য নির্মানের অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে, পরবর্তীতে নানা ঘটনা প্রবাহের মধ্যদিয়ে ভাষ্কর্যটি আমেরিকায় স্থাপন করা হয়।

স্ট্যাচু আব লিবার্টি প্রায় সম্পূর্ণ মূর্তিটিই তৈরী করা হয়েছে ফ্রান্সে। লোহাড় ফ্রেমের উপর তামার পাত দিয়ে, ৩০০ টি খন্ডে তৈরী হয়েছে ভাস্কর্যটি। ১৮৮৫ সালে ২১৪ টি বাক্সে ভরে জাহাজে করে ভাষ্কর্যটি আমেরিকায় পাঠানো হয়। ১৮৮৬ সালের ২৮ অক্টোবর, তৎকালীন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড ভাষ্কর্যটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

 স্ট্যাচু আব লিবার্টি প্রথম দিকে দেখতে সবুজ রঙের ছিল না, এমনকি বর্তমানের এই সবুজ রংও করা হয়নি। ভাস্কর্যটি তামার তৈরী হওয়ায়, শুরুতে এর রং ছিল তামাটে। দীর্ঘকাল ধরে, এর চারদিকে থাকা সমুদ্রের জলীয়বাষ্পের সাথে তামার বিক্রিয়ার কারণে মূর্তিটি সবুজ রং ধারন করছে। এটি এক বিশেষ ধরনের মরিচা।

৯৩ মিটার লম্বা এই ভাস্কর্যটির ওজন হল প্রায় ২০৪ মেট্রিক টন।এই ভাস্কর্যের ভিতরে একটি সিঁড়ি রয়েছে, এই ৩৫৪টি সিঁড়ির ধাপ পেরিয়ে মাটি থেকে একদম ওপরের মশাল পর্যন্ত যাওয়া যায়। এই ভাস্কর্যের উচ্চতা বাইশ তলা উঁচু বিল্ডিং এর সমান, বেদি থেকে ভাস্কর্যের মশালের শিখর পর্যন্ত উচ্চতা ৯৩ মিটার বা ৩০৬ ফুট, এর মোট ওজন ২২৫ টন। ভাস্কর্যের মুকটের কাছে রয়েছে ২৫ টি জানালা, যা অনেকটা ওয়াচ টাওয়ার হিসেবে কাজ করে।

এই ভাস্কর্যের গায়ে যখন ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো বাতাস আছড়ে পড়ে তখন ভাস্কর্য ্য্ ইঞ ও ভাস্কর্যটি ৩ইনঙি ও টর্চটি ৫ ইঞ্চি পর্যন্ত নড়তে থাকে।

সেসময়ে এই ভাস্কর্যটি তৈরি করতে প্রায় পাঁচ লাখ মার্কিন ডলার অর্থ খরচ হয়েছিল, যার বর্তমান মূল্য দশ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি বানাতে ফ্রান্সের খরচ হয়েছিল আড়াই লাখ মার্কিন ডলার।

এই ভাস্কর্যটি যে স্থাপনার ওপর বসানো হয়েছে সেটা তৈরি করতে আমেরিকার খরচ হয়েছে ২ লাখ ৭৫ হাজার ডলার

স্ট্যাচু অফ লিবার্টি ঘিরে দু’টি দুঃখজনক ঘটনা রয়েছে, আর সেটা হল এপর্যন্ত দুইজন মানুষ স্ট্যাচু অফ লিবার্টি থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। প্রথম ঘটনাটি ১৯২৯ সালে ও দ্বিতীয় আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৩২ সালে। বর্তমানে এই ভাস্কর্যের সিঁড়িটি জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বন্ধ রাখা হয়েছে।


YouTube Video Link

আইফেল টাওয়ার

  শিল্প সাহিত্য ও ঐতিহ্যের নগরী হিসেবে খ্যাত ফ্রান্স। ফ্রান্সের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর হচ্ছে প্যারিস।

প্যারিসের কথা শুনলেই সবার আগে মাথায় আসে আইফেল টাওয়ারের নাম। বর্তমানে পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থাপনা হচ্ছে বুর্জ খলিফা। আচ্ছা বলুন তো উনিশ শতকে পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু স্থাপনা কোনটি ছিল। উত্তর হচ্ছে আইফেল টাওয়ার।প্যারিসের ঐতিহ্যবাহী শেন নদীর পাড়ঘেষা চ্যাম্প ডি মার্সে তে অবস্থিত এই স্থাপনাটি।

আমাদের আজকের এই পর্ব আইফেল টাওয়ারকে নিয়ে। আজকে আপনাদের বলবো আইফেল টাওয়ারের ইতিহাস ও এর অজানা তথ্য,হতে পারে যা আপনি আগে কখনো শুনেননি।


১৮৮৭ সালে ফ্রান্স সরকার যখন ফরাসী বিপ্লবের স্মৃতিকে একটি নিদর্শনে ধরে রাখার জন্যই আইফেল টাওয়ার নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। 

এই টাওয়ার নির্মাণ কাজের জন্য বিখ্যাত সেতু প্রকৌশলী আলেকজান্ডার গুস্তাভ আইফেলকে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি পেটা লোহার দিয়ে ৩০০ মিটার বা ৯৮৪ ফুট উঁচু এই মিনারটি নির্মাণ করেন। তার নামানুসারেই এই মিনারটির নাম রাখা হয় ‘আইফেল টাওয়ার’।এটি বানানোর জন্য মোট ৭৮ লাখ ফ্রাঙ্ক খরচ হয়েছিল,যার বড় অংশটা তিনি নিজের পকেট থেকে দিয়েছিলেন৷ এমনকি সময়মত কাজ শেষ করার জন্য নিজের সম্পত্তি বন্ধকও রেখেছিলেন তিনি।

আইফেল টাওয়ার তৈরির কাজ শুরু হয় ১৮৮৭ সালের ২৮ জানুয়ারি, আর সবমিলিয়ে কাজ শেষ হয় ১৮৮৯ সালের ৩১ মার্চ। এটি তৈরি করতে সময় লেগেছে সর্বমোট ২ বছর ২ মাস ৫ দিন, এই টাওয়ার তৈরিতে করতে কাজ করেছেন ৩০০ জন শ্রমিক। তারা ১৮,০৩৮ টুকরো রড আয়রন ও ২৫ লাখ নাটবোল্ট সংযোজন করেন। নির্মাণ শেষে এর ওজন দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার টন এবং উচ্চতা ৯৮৪.২৫ ফুট। 

আইফেল টাওয়ার দু’একর জমি জুড়ে স্থাপিত। টাওয়ারটির চৃড়া থেকে ৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত দেখা যায়। অন্যভাবে বলতে গেলে ৭৫ কিলোমিটার দূর থেকে আইফেল টাওয়ারের চূড়া দেখা যায়। অবশ্য এতো উচূতে উঠতে হলে আপনাকে ১৬৬৫টি সিঁড়ি পার করতে হবে।  উদ্বোধনের ২০ বছর পর্যন্ত এই আইফেল টাওয়ারই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু স্থাপনা৷

শুরুতে আইফেল টাওয়ারকে মনে করা হতো শহরের সবচেয়ে খারাপ স্থাপনা। এবং এই টাউয়ার নির্মাণের প্রতিবাদে আন্দোলনো হয়েছে, কিন্তু পরবর্তীতে এই আইফেল টাওয়ারটাই শহরের প্রতীক হিসেবে জায়গা করে নেয়।

 মোট ২০ হাজারটি বাল্ব,৩৩৬টি প্রজেক্টর আলোকিত করে রাখে এই টাওয়ারকে। আইফেল টাওয়ার সবচাইতে সুন্দর দেখায় রাতের বেলায়। তবে সারাত আয়ফেল টাওয়ার  আলোকিত হয়ে থাকে না। প্রতিদিন সন্ধ্যায় প্রতি ঘণ্টায় ১ বার ৫ মিনিটের জন্য ঝলমল আইফেল টাওয়ার যা চলে রাত ১ টা পর্যন্ত।

 প্রতি ৭ বছর পর পর আইফেল টাওয়ারে রঙ করা হয়।এই রঙের কাজ চলে প্রায় আঠারো মাস ধরে, তবে অবাক করা তথ্য হচ্ছে, এই ১৮ মাসে একদিনের জন্যও জনসাধারণের জন্য বন্ধ থাকে না আইফেল টাওয়ার।‌‌ ৬০ টন রং লাগে আইফেল টাওয়ারের জন্য। এ পর্যন্ত ১৮ বার আইফেল টাওয়ার রং করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আইফেল টাওয়ার রং করতে ব্যয় হয় প্রায় ৪ মিলিয়ন ইউরো। 

১৯০৯ সালে এর চুড়ায় বসানো হয় একটি বেতার এন্টেনা। এতে টাওয়ারের উচ্চতা আরও ২০.৭৫ মিটার বা ৬৬ ফুট বেড়ে যায়। সেই থেকে আইফেল টাওয়ারকে‌  Radio Transmision‌ জন্যও ব্যবহার করা হচ্ছে। পরে আইফেল টাওয়ারে একটি টিভি এন্টেনাও বসানো হয়েছে। বর্তমানে এই টাওয়ারে ১২০টি আ্যন্টেনা রয়েছে।

রড আয়রন দিয়ে নির্মিত হওয়ার কারণে টাওয়ারটির ধাতব পদার্থ বিভিন্ন ঋতুতে তাপমাত্রা পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বড়-ছোট হয়। উষ্ণতার কারণে গ্রীষ্মকালে এর দৈর্ঘ্য বৃ্দ্ধি পায়। গ্রীষ্মকালে সূর্যের তাপমাত্রা বাড়লে এর আকার বেড়ে যায় প্রায় ৬.৭৫ ইঞ্চি। ঝড়ো হাওয়ায় এটি সর্বোচ্চ ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত কাঁপতে পারে!

টাওয়ারটির ভেতরে অবস্থিত দুটি রেস্তোঁরা হলো লা 58 ট্যুর আইফেল এবং লা জুল ভার্ন।এখানে একটি সংবাদপত্র অফিস আছে। এছাড়াও এতে রয়েছে পোস্ট অফিস, বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার ও একটা থিয়েটার।

প্রথম মহাযুদ্ধের সময় এ টাওয়ারটি বেতার তরঙ্গ সম্প্রচার করার কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় প্যারিসে নাৎসি বাহিনীর আগমনের আগে এর লিফটের তার কেটে দিয়েছিল মিত্র বাহিনী। নাৎসিরা যেন টাওয়ারটি ব্যবহার করতে না পারে, সে জন্যই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

যে আইফেল টাওয়ার নির্মান করা হয়েছিল মাত্র ২০ বছরের জন্য,যে আইফেল টাওয়ার নির্মাণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আন্দোলন হয়েছিল,সেই আইফেল টাওয়ার আজকে বিশ্ব সেরা স্থানগুলোর একটি।প্রতিবছর এই টাওয়ার দেখতে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ আসে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। ১৮৮৯ সাল থেকে এখন অবধি প্রায় ৩০০ মিলিয়ন পর্যটক আইফেল টাওয়ারে এসেছেন। ১৯৯১ইউনাস্কো আয়ফেল টাউয়ারকে  বিশ্ব ঐতৈহ্যের স্থান হিসেবে সিক্রৃতি দেয়।

বর্তমান বিশ্বে আইফেল টাওয়ারের থেকে উঁচু টাওয়ার বা স্থাপনা অনেক রয়েছে। তবে আইফেল টাওয়ার এখনো পৃথিবীর সেরা স্হাপনা হিসেবে ধরা হয় এর নিজস্ব ইতিহাস ও বৈচিত্র্যে কারণে। আর তাই বিশ্ব মানচিত্রে আইফেল টাওয়ার এখনও অনন্য।

YouTube Video Link: 

লালবাগ কেল্লা-একটি অসমাপ্ত মুঘল দুর্গ

ঢাকার নাম শুনলে যে কয়টি জায়গার নাম চোখে ভাসে তার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে লালবাগ কেল্লা। পুরান ঢাকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লালবাগ কেল্লা একটি অসমাপ্ত মুঘল দুর্গ।লালবাগ দূর্গ ১৯ একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত।  পূর্বে কেল্লাটির পেছন দিক দিয়ে বুড়িগঙ্গা নদী বয়ে যেত। কিন্তু ১৮৯৭ সালের প্রবল ভুমিকম্পে বুড়িগঙ্গার গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে যায়।



সম্রাট আওরঙ্গজেবের ৩য় পুত্র, মুঘল রাজপুত্র আজম শাহ বাংলার সুবাদার থাকাকালীন ১৬৭৮ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু করেন। তিনি বাংলায় ১৫ মাস ছিলেন। দুর্গের নির্মাণকাজ শেষ হবার আগেই মারাঠা বিদ্রোহ দমনের জন্য সম্রাট আওরঙ্গজেব তাকে দিল্লি ডেকে পাঠান। এসময় একটি মসজিদ ও দরবার হল নির্মাণের পর দুর্গ নির্মাণের কাজ থেমে যায়। 


সুবাদার শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে সুবাদার হিসেবে ঢাকায় এসে দুর্গের নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করেন। ১৬৮৪ সালে এখানে শায়েস্তা খাঁর কন্যা পরী বিবি মৃত্যু ঘটে। কন্যার মৃত্যুর পর শায়েস্তা খাঁ এ দুর্গটিকে অপয়া মনে করেন এবং ১৬৮৪ অসমাপ্ত অবস্থায় এর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। শুরুতে এই এলাকার নাম ছিল আওরঙ্গবাদ, তবে ১৮৪৪ সালে এই নামটি বদলে হয়ে যায় "লালবাগ", এবং দুর্গটি পরিণত হয় লালবাগ দুর্গে ।

১৯ একর আয়তনের নানা ধরনের ফুল দিয়ে ঘেরা বিশাল এই দূর্গে মোট পাঁচটি স্থাপনা রয়েছে: এগুলো হলো



শাহী মসজিদ

পরিবিবির সমাধি

দেওয়ান-ই-আম

সুবিশাল তোরণসহ আংশিক ধ্বংস প্রাপ্ত উঁচু দুর্গ প্রাচীর

দক্ষিন-পশ্চিমে জলাধার-ফোয়ারা বেষ্টিত ছাদ বাগান

দক্ষিন-পশ্চিম কোনের ৫ টি বুরুজ


দেওয়ান-ই-আম (বিচারালয়)  

লালবাগ কেল্লার এই দালান কে দুটি কাজে ব্যবহার করা হত এক. হাম্মাম খানা বা বাস ভবন ২. দেওয়ান ই আম  বা বিচারালয় হিসেবে। এই দালানের নিচ তালা ছিল বাস ভবন তথা হাম্মাম খানা আর উপরের তলা ছিল কোর্ট তথা দি ওয়ানে আম। শায়েস্তা খাঁ এই ভবনে বাস করতেন এবং এটাই ছিল তার কোর্ট। এখান থেকে তিনি সমস্ত বিচার কার্য পরিচালনা করতেন । সরকার এটিকে জাদুঘর হিসেবে রুপান্তরিত করেছে। এর মধ্যে সংরক্ষন করা হয়েছে ঐতিহাসিক তাৎপর্যমণ্ডিত জিনিসপত্র।


পরী বিবির সমাধি

লালবাগ কেল্লার স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম পরী বিবির সমাধি। শায়েস্তা খান তার কন্যার স্মরণে এই মনমুগ্ধকর মাজারটি নির্মাণ করেন। লালবাগ কেল্লার তিনটি বিশাল দরজার মধ্যে বর্তমানে জনসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত মাত্র একটি দরজা। এই দরজা দিয়ে ঢুকলে বরাবর সোজা চোখে পড়ে পরী বিবির সমাধি। আসলে "লালবাগ কেল্লা" বলতে যেই ছবিটি বেশি পরিচিত সেটি মূলত পরী বিবির সমাধির ছবি।

 মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র শাহজাদা মুহাম্মদ আজমের সাথে ১৬৬৮ সালের ৩ মে পরী বিবির বিয়ে হয়। ১৬৮৪ সালে পরী বিবির অকালমৃত্যুর পর তাকে নির্মাণাধীন লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে সমাহিত করা হয়। তার সমাধীস্থলকে চিহ্নিত করে পরী বিবির মাজার নির্মিত হয়। সৌধটির অন্যতম আকর্ষণ হল এর ছাদ ও গম্বুজ। এছাড়া চারপাশে অষ্টকোন বিশিষ্ট ৪টি মিনার এবং মাঝখানে একটি গম্বুজ রয়েছে। স্থাপনাটির অভ্যন্তর ভাগ শ্বেত পাথরে নির্মিত।



তিন গম্বুজওয়ালা দুর্গ মসজিদ (শাহী মসজিদ)

সম্রাট আওরঙ্গজেবের তৃতীয় পুত্র শাহজাদা আজম বাংলার সুবাদার থাকাকালীন এই মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন ১৬৭৮-৭৯ সালে। আয়তাকারে নির্মিত তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি লালবাগ কেল্লার একটি দৃষ্টিনন্দন স্হাপনা। বর্তমানেও মসজিদটি মুসল্লিদের নামাজের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে।


বুরুজ

দুর্গ প্রাচীরের দক্ষিনে ৫ টি বুরুজ ছিল। এই বুরুজগুলো দোতলা সমান উচ্চতা-বিশিষ্ট। বুরুজগুলোর মধ্যে ছিল একটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ যেটা নিয়ে লোকমুখে নানা ভৌতিক কাহিনী প্রচলিত আছে। কথিত আছে এ গুহায় যে প্রবেশ করে সে আর কখনো ফিরে আসেনা।তবে  বর্তমানে সুড়ঙ্গমুখটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে।


ছাদ বাগান

লালবাগের কেল্লাটির অন্যতম আকর্ষণ এই ছাদ বাগান। যদিও এখন এটির সেই আগের সৌন্দর্য নেই, তবুও এই ছাদে গেলে অনুভব করা যায় ছাঁদ-বাগানটি একসময় কতটা দৃষ্টিনন্দন ছিল। এই ছাদ বাগানে উঠে উত্তর দিকে তাকলে অপূর্ব সুন্দর এক লালবাগ কেল্লা দেখতে পাওয়া যায়।

লালবাগের কেল্লা খোলা থাকে সপ্তাহের ৬ দিন। প্রত্যেকদিন সকাল দশটা থেকে একটা এবং এক ঘন্টা বিরতির পর বেলা দুটা থেকে ছ’টা পর্যন্ত এটি দর্শনার্থী দের জন্য উম্মুক্ত থাকে। শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ। সরকারীর ছুটির দিনগুলোতেও জাদুঘর বন্ধ থাকে।

লালবাগ কেল্লা টিকেট মূল্যঃ

জাদুঘরে জনপ্রতি প্রবেশ মূল্য প্রাপ্ত বয়স্ক বিশ টাকা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক দশ টাকা।

ধামরাইয়ের জগন্নাথ রথ

 ধামরাই জগন্নাথ রথ ঢাকার ধামরাই উপজেলায় অবস্থিত হিন্দু দেবতা জগন্নাথের প্রতি উৎসর্গিকৃত একটি রথমন্দির।প্রায় চার শত বছর পূর্বে তৈরী হয়েছিল ধামরাইয়ের প্রথম রথ।

বিশাল ৪তলা রথ নির্মাণ করেছিলেন মানিকগঞ্জের বালিয়াটির তৎকালীন জমিদার বাবু রায়। এরপর এর তত্ত্বাবধানের ভার নেয় ধামরাইয়ের রায় সম্প্রদায়।  স্বাধীনতার পূর্বে ৪তলা রথ টেনে নিতে ২৪ মন পাট লাগত।১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনী এই রথ পুড়িয়ে দিলে একটি নতুন রথ পরে নির্মিত হয়।


ধামরাই রথযাত্রাটি বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রাচীন ও বৃহত্তম রথযাত্রা।এই রথ যাত্রা উপলক্ষে ধামরাইয়ে মাসব্যাপী গ্রামীণ ও কুটির শিল্পমেলা অনুষ্ঠিত হয়।সুউচ্চ নতুন রথ টানার সময় চারদিক থেকে মানুষের ছিটানো চিনি ও কলা বৃষ্টির মতো পড়তে থাকে। এ দৃশ্য দেখার জন্য সর্ব ধর্মের লোকের মহাসমাগম ঘটে।

এক মাস দীর্ঘ এই মেলা বাংলা পঞ্জিকার সাথে সংযুক্ত। সাধারণত আষাঢ় মাসে এটি অনুষ্ঠিত হয়। শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে প্রতিবছর রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ৯ দিন পর হয় উল্টো রথ। এই রথ উৎসব ধামরাই বাজারের প্রধান সড়কের দুই পাশে অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রির জন্য বিভিন্ন স্টল স্থাপনের পাশাপাশি দেশবিখ্যাত সার্কাস দল, নাগরদোলা, পুতুল নাচ, চুড়ি নিয়ে হাজির হয় বেদেনীরা, শিশুদের জন্য কাঠের, বাঁশের, মাটির খেলনা, কুটির শিল্প, তৈজসপত্র, ফার্নিচার ও খাদ্যদ্রব্য যেমন খই, মুড়ি-মুড়কিসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের পসরা বসে এই মেলায়।

ধামরাইয়ের জগন্নাথ রথ নিয়ে আমার তৈরি ভিডিও লিংক:

৪০০ বছরের পুরনো ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা


বালিয়াটি জমিদার বাড়ি,সাটুরিয়া মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় অবস্থিত বালিয়াটি জমিদার বাড়ি সব চেয়ে সুন্দর, আকর্ষণীয় এবং বৃহৎতম একটি জমিদার বাড়ি। মানিকগঞ্জের অনেক গুলো জমিদার বাড়ির মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় এবং দেখতেও অনেক সুন্দর।এটি বর্তমানেবাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ কর্তৃক সংরক্ষিত ও পরিচালিত হয়।


এই জমিদার বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করতে হলে ২০ টাকার টিকিট নিতে লাগে, আর বিদেশিদের জন্য এই টাকার পরিমাণটা হচ্ছে ১০০ টাকা।টিকেট নিয়ে গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেই আপনাকে স্বাগতম জানাবেন বিশাল চারটি প্রাসাদ।চারটি ভবনের মধ্যে তিনটি ভবন ধবধবে সাদা এবং সংস্কার করা,আর একেবারে পূর্বের ভবনটি সেই আগের অবস্থাতেই আছে।

খুব সুন্দর কারুকার্য খচিত এই চারটি ভবনের মধ্যে মাঝখানের দুইটি ভবন দুতলা করে,আর দুই পাশের ভবন দুটি তিন তলা করে।পশ্চিম দিক থেকে দ্বিতীয় ভবনটির দুতলায় রয়েছে একটি জাদুঘর, যেখানে এই জমিদার বাড়িতে ব্যাবহিত বিভিন্ন আসবাবপত্র প্রদর্শন করে রাখা হয়েছে।এইগুলো হচ্ছে এই জমিদার বাড়িতে ব্যাবহার সিন্দুক।পুরো জমিদার বাড়িতে মোট ভবন আছে ৮ টি, তারমধ্যে সামনে আছে ৪টি ভবন আর তার পেছনে আছে আরো চারটি ভবন।

সামনের মাঝের দুটি ভবনের ঠিক পেছনেই আছে দুটাটি অন্দরমহল, বলা হয়ে থাকে সামনের চারটি ভবনে জমিদাররা তাদের ব্যাভসার কাজে ব্যাবহার করতো,আর পেছনের অন্দরমহলে জমিদার পরিবারের সদস্যদের বসবাস করতো।

একদম পশ্চিম দিকের সারিতে রয়েছে আরো দুটি ভবন, ধারণা করা হয় এখানে প্রাসাদের চাকর বাকর, গাড়ি রাখার গ্যারেজ, ঘোড়াশাল ছিল ।

আর একদম পেছনে রয়েছে ছয় ঘাটলা বিশিষ্ট বিশাল এই পুকুর।স্থনীয় একজনের সাথে কথা বলে আমি জানতে পেরেছি,এই জমিদারদের রেখে য়াওয়া এরকম বিশাল ২০ টি পুকুর এখন দেখভাল করে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর উচ্চ বিদ্যালয়।জমিদার বাড়িতে থেকে একটু দক্ষিণে অবস্তিত এই স্কুলটি ১৯১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি ওইতিহ্য স্কুল।

“গোবিন্দ রাম সাহা” বালিয়াটি জমিদার পরিবারের গোড়াপত্তন করেন। ১৮ শতকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি লবণের বণিক ছিলেন।এটি বাংলাদেশের ১৯ শতকে নির্মিত অন্যতম প্রাসাদ।

জমিদার পরিবারের বিভিন্ন উত্তরাধিকারের মধ্যে “কিশোরীলাল রায় চৌধুরী, রায়বাহাদুর হরেন্দ্র কুমার রায় চৌধুরী তৎকালীন শিক্ষাখাতে উন্নয়নের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। ঢাকার জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কিশোরিলাল রায় চৌধুরীর পিতা. যার নামানুসারে উক্ত প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়।

এই বালিয়াটি জমিদার বাড়ি সবগুলো ভবন একসাথে স্থাপিত হয়নি। এই প্রাসাদের অন্তর্গত বিভিন্ন ভবন জমিদার পরিবারের বিভিন্ন উত্তরাধিকার কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে স্থাপিত হয়েছিল। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্লকটি যাদুঘর।

কর্মব্যস্ত একটি সপ্তাহ কাটানোর পর অনেকেই চান বিরতি। ছুটির দিনে কোথাও পরিবারের সবাইকে নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারলে আরো ভালো। কিন্তু শহরের ভিড় আর হট্টগোলের ভেতর বেড়ানোর প্রশান্তিটা আর মেলে কোথায়! শহর ছেড়ে দূরে কোথাও যাবেন সে সময়টাও তো নেই, কারণ ছুটি মাত্র একদিনের!


কীভাবে যাবেন

ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে জনসেবা বা এসবি লিংক গেটলক পরিবহনের বাসে করে মাত্র দুই ঘণ্টায় সাটুরিয়া পৌঁছে যাওয়া যায়। বাসভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৭০ টাকা। সাটুরিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে মাত্র ৩০ টাকা রিকশা ভাড়ায় চলে যেতে পারবেন বালিয়াটি জাদুঘর।


টিকেট

বালিয়াটি জাদুঘরের জনপ্রতি টিকেটের দাম দেশি দর্শনার্থীদের জন্য ১০ টাকা এবং বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য ১০০ টাকা। রোববার জাদুঘর পূর্ণদিবস বন্ধ থাকে এবং সোমবার বন্ধ থাকে অর্ধদিবস। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর খোলা থাকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি নিয়ে আমার তৈরি ভিডিও লিংক:

প্রাচীন নিদর্শন বালিয়াটি জমিদার বাড়ি,মানিকগঞ্জ


পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি

আমার দেখা সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন জমিদার বাড়িরগুলোর  মধ্যে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় অবস্থিত পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি অন্যতম একটি।অন্যান্য অনেক জমিদার বাড়ির থেকে পাকুটিয়া জমিদার বাড়িকে আলাদা করা যায় এর দৃষ্টিনন্দন ও অনন্য স্থাপত্য শৈলীর কারণে। 


আজকে আপনাদের এই জমিদার বাড়িটি ঘুরিয়ে দেখাবো এবং জানাবো এর ইতিহাস।

টাঙ্গাইল সদর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে নাগরপুর উপজেলার লৌহজং নদীর তীরে ১৫ একর জায়গাজুড়ে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি।

পশ্চিম বঙ্গের কলকাতা থেকে নাগরপুরে আসেন রামকৃষ্ণ সাহা মন্ডল।ঊনবিংশ শতাব্দীর  ঠিক শুরুতে  তিনি ইংরেজদের কাছ থেকে ক্রয় সূত্রে তার জমিদারি শুরু করেন।

রামকৃষ্ণ সাহা মণ্ডলের ছিল দুই ছেলে, বৃন্দাবন ও রাধা গোবিন্দ। রাধা গোবিন্দ ছিল নিঃসন্তান কিন্তু বৃন্দাবন চন্দ্রের ছিল তিন ছেলে ব্রজেন্দ্র মোহন, উপেন্দ্র মোহন এবং যোগেন্দ্র মোহন। এভাবে পাকুটিয়া জমিদারি তিনটি তরফে বিভক্ত ছিল। 

১৯১৫ সালের ১৫ এপ্রিল এই তিন ভাইয়ের নামে উদ্বোধন করা হয় একই নকশার পরপর তিনটি প্যালেস।তখন জমিদার বাড়িটি তিন মহলা বা তিন তরফ নামে পরিচিত ছিল। ১৯১৬ খ্রিঃ তাঁরা তাঁদের পিতা বৃন্দাবন এবং কাকা রাধা গোবিন্দের নামে বৃন্দবন চন্দ্র রাধা গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয় (বিসিআরজি) প্রতিষ্ঠা করা হয়।

এখানে আছে অপূর্ব কারুকার্যখচিত বিশাল চারটি ভবন এবং একটি নাট মন্দির।প্রতিটি ভবনের  দেয়ালের পরতে পরতে রয়েছে সৌন্দর্যের ছোঁয়া। ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা অন্য জমিদার বাড়ির থেকে একটু হলেও বাড়তি সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়া যায় এই পাকুটিয়া জমিদার বাড়িতে। অসংখ্য গাছ পালার ছায়ায় আচ্ছাদিত সুন্দর মনোরম পরিবেশ এই জমিদার বাড়ির সুন্দরযকে অনেক খানি বাড়িয়ে দিয়েছে।

জমিদার বাড়ির সামনে বিশাল মাঠের এক কোণে রয়েছে এই নাট মন্দির। এক সময় নাচে-গানে মুখর থাকত এই নাট মন্দির।

আর এই ভবনটি ব্যবহার করা হতো মন্দির হিসেবে।মন্দির ঘুরে দেখা গেল, এর কোথাও কোথাও ইট খসে পড়েছে, সেই পুরনো দিনের নকশা হারাচ্ছে তার সৌন্দর্য।

অন্য তিনটি ভবন দুতলা করে এবং এদের চারপাশে রয়েছে বারান্দা।প্রতিটি বাড়ীর মাঝ বরাবর মুকুট হিসাবে লতা ও ফুলের অলংকরণে কারুকার্য মন্ডিত পূর্ণাঙ্গ দুই সুন্দরী নারী মূর্তি রয়েছে।

একদম পূর্ববের সবচেয়ে বড় মহলে বর্তমানে পাকুটিয়া বিসিআরজি ডিগ্রী কলেজ পরিচালিত হচ্ছে।বর্তমানে এই কলেজের মাধ্যমেই জমিদারদের রেখে যাওয়া সম্পদের দেখা শুনা করা হয়। দ্বিতল বিশিষ্ট এই ভবনের নির্মাণশৈলী মুগ্ধ করার মতো।তবে সংস্কারের অভাবে এই ভবনটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। 

তারপাশেই আছে অপূর্ব লতাপাতার কারুকার্যখচিত বিশাল আরেকটি ভবন, যার মাথায় রয়েছে ময়ূরের মূর্তি, এ ছাড়া কিছু নারী মূর্তির দেখা মিলে। লতাপতায় আছন্ন ভবনটির একাংশ বর্তমানে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং আরেক অংশে একটি বেসরকারি দাতব্য সেবা সংস্থা পরিচালিত হচ্ছে। 

সবশেষে দ্বিতল বিশিষ্ট এই মহলটির সামনে রয়েছে বিশাল শান বাঁধানো সিঁড়ি।এই মহল ঘুরে দেখা গেছে এখানে এখন কিছু সাধারণ মানুষ বসবাস করে এবং অন্য দুটি ভবনের  তুলনায় এই ভবন অনেক বেশি জরাজীর্ণ।

জমিদার বাড়ির ভবনগুলো সংস্কার  না হওয়াতে একদিকে যেমন সৌন্দর্য হারাচ্ছে,অন্য দিকে এটি দিন দিন ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে অজানা থেকে যাচ্ছে এর ইতিহাস।

যেহেতু এই জমিদার বাড়িটি সম্পূর্ণ অরক্ষিত ও উন্মুক্ত, তাই বছরের যে কোন দিন যে কোন সময় এখানে আসা যাবে। এখানে আসার রাস্তাটিও খুব সহজ,ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে এসবি লিংক পরিবহনের বাসে করে সরাসরি এই জমিদার বাড়ির সামনে এসে নামতে পারেন,বাড়া নিবে কম বেশি ১২০ টাকা।

পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি নিয়ে আমার তৈরি ভিডিও লিংক:

মাত্র ২৫০ টাকায় ঘুরে আসুন পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি,টাঙ্গাইল থেকে

তারা মসজিদ,আরমানিটোলা,পুরান ঢাকা

 ঢাকাকে বলা হয় মসজিদের নগরী।আর এই ঢাকাতে যতোগুলো ঐতিহাসিক মসজিদ রয়েছে,তার বেশির ভাগই পুরান ঢাকায় অবস্থিত। এমনই একটি ঐতিহাসিক মসজিদ হলো পুরাতন ঢাকার আরমানিটোলার আবুল খয়রাত রোডে অবস্থিত তারা মসজিদ।

বর্তমানে বাংলাদেশের ১০০ টাকার নোটের পেছনে এই মসজিদের ছবি দেখা যায়।মসজিদটি ঠিক কবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তার কোনো সঠিক তথ্য নেই। তবে বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী,এর নির্মাতা ছিলেন ঢাকার জমিদার মির্জা গোলাম পীর। গোলাম পীরের পূর্বপুরুষ ঢাকায় এসে ‘মহল্লা আলে আবু সাইয়েদ’এলাকায় বসবাস শুরু করেন, পরে এই এলাকার নাম হয় আরমানিটোলা। 

মির্জা গোলাম পীর ১৮৬০ সালে মারা যান। ওই শতকের শুরুতেই তিনি মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। সতেরো শতকে দিল্লি, আগ্রা ও লাহোরে নির্মিত মোগল স্থাপত্যশৈলী অনুসরণে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। শুরুতে এটি মির্জা সাহেবের মসজিদ নামেই পরিচিত ছিল।

মির্জা গোলাম পীরের তৈরির আদি মসজিদটির দৈর্ঘ্য  ছিল ৩৩ ফুট  এবং প্রস্থ ১২ ফুট, গম্বুজ ছিল তিনটি। মাঝের গম্বুজটি অনেক বড় ছিল। সাদা মার্বেল পাথরের গম্বুজের ওপর তখন নীলরঙা অসংখ্য তারা যুক্ত ছিল। এ কারণে এটি তারা মসজিদ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। 

১৯২৬ সালে, ঢাকার তৎকালীন স্থানীয় ব্যবসায়ী, আলী জান বেপারী মসজিদটির সংস্কার করেন। সে সময় জাপানের রঙিন চিনি-টিকরি পদার্থ ব্যবহৃত হয় মসজিদটির মোজাইক কারুকাজে। এই সময় মসজিদটির আকার বড় করা হয়। মসজিদের পূর্ব দিকে একটি বারান্দা যুক্ত করা হয়।

১৯৮৭ সালে এই মসজিদ পুনরায় সংস্কার করা হয়। এই সময় পুরোনো একটি মেহরাব ভেঙে দুটো গম্বুজ আর তিনটি নতুন মেহরাব বানানো হয়। সব মিলিয়ে বর্তমানে এর গম্বুজ সংখ্যা। মসজিদের বতর্মান দৈর্ঘ্য ৭০ ফুট, প্রস্থ ২৬ ফুট।


তারা মসজিদ নিয়ে আমার তৈরি ভিডিও:১০০ টাকার তারা মসজিদ

বাঙলা কলেজ,ঢাকা

বাঙলা কলেজ রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী সরকারি কলেজ। বাঙালির জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং বাংলাকে উচ্চতর শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে চালু করার লক্ষ্যে ১৯৬২ সালে এই কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।


বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক আবুল কাশেম। ১৯৬১ সালে তিনি কতিপয় শিক্ষাবিদ ও জ্ঞানীগুণীদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বাঙলা কলেজ স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাকে শিক্ষার মাধ্যম ও অফিস-আদালতের ভাষা হিসাবে চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। 


এ উদ্দেশ্যে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ, ডক্টর ইন্নাস আলীসহ কয়েকজনকে নিয়ে একটি প্রস্ত্ততি কমিটি গঠন করা করেন। ১৯৬১ সালের ১৫ ই ফেব্রুয়ারি ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ঢাকায় একটি বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং এর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে একটি বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

১৯৬২ সালের ১ অক্টোবর বকশিবাজারের নবকুমার ইনস্টিটিউটে নাইট কলেজ হিসেবে বাঙলা কলেজ কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৬২-৬৩ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে কলা বিভাগ ও বিএ প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।

১৯৬৪ সালে কলেজটি মিরপুরে স্থানান্ত হয়।১৯৬৯ সালের বাঙলা কলেজের বি.এসসি ও বি.কম ক্লাশ শুরু হয়।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বাঙলা কলেজ দখল করে নেয়। তখন দীর্ঘ নয় মাস কলেজটি অবরুদ্ধ ছিল, কলেজের সাইনবোর্ড নামিয়ে এ সময় ‘উর্দু কলেজ’ সাইনবোর্ড লাগানো হয়।


পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় সহযোগীরা বাঙলা কলেজে ক্যাম্প স্থাপন করে অজস্র মুক্তিকামী মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

মূল প্রশাসনিক ভবনের অনেক কক্ষই ছিল নির্যাতন কক্ষ। বর্তমান হলের পাশের নিচু জমিতে আটককৃতদের লাইন ধরে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করা হতো। অধ্যক্ষের বাসভবন সংলগ্ন বাগানে আম গাছের মোটা শিকড়ের গোড়ায় মাথা চেপে ধরে জবাই করা হতো। এভাবে মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় জুড়ে বাঙলা কলেজ ও এর আশেপাশে নৃশংস হত্যাকান্ড চলেছে, হয়েছে নারী নির্যাতন।


এ পর্যন্ত বাঙালা কলেজে মোট ১০ টি  বধ্যভূমি চিন্হীহীন করা গেছে। যেখানে পাক হানাদার বাহিনী মুক্তি কামি বাঙালিদের ধরে এনে নির্যাতন ও হত্যা করতো।সেই ১০ টি বধ্যভূমি থেকে বর্তমান কলেজ প্রশাসনের উদ্যোগে তিনটি বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে।


১৯৮৫ সালে কলেজটি সরকারিকরণ করা হয় এবং ১৯৯৭ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়।

২০১৭ সালে বাঙালা কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ৭ কলেজের মধ্যে বাঙলা কলেজ আয়তনে সবচেয়ে বড়। প্রায় ২৫ একক আয়তনের সবুজ এই ক্যাম্পাসে বতামানে ১৮ বিভাগ চালু আছে,যেখানে ৩০ হাজারের বেশি ছাত্র ছাত্রী পড়াশোনা করে।

বাঙালা কলেজে প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম এবং শেখ কামাল নামে দুটি হল আছে।এর মধ্যে শেখ কামাল হলটি এখনো নির্মাণাধীন। ছাত্র ছাত্রীদের যাতায়াতের জন্য আছে বিজয় নামের একটি বাস।

আছে সাকৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য সুবিশাল অডিটোরিয়াম এবং ছাত্রদের পড়াশোনার জন্য আধুনিক লাইব্রেরী।

বাঙলা কলেজে সক্রিয় আছে ২০ বেশি ক্লাব এবং সংগঠন।যারা কলেজের অভ্যান্তরিন  কার্যক্রমের পাশাপাশি জাতির পর্যায়ে কলেজেকে প্রতিনিধিত্ব করে অর্জন করেছে অনেক জাতীয় পুরস্কার এবং সম্মান। বিভিন্ন ক্লাব এবং সংঠনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, বাঙলা কলেজ যুব থিয়েটার,রোভার স্কাউট, বিএনসিসি,বাঁধন, বাঙলা কলেজ ডিবেটিং সোসাইটি


বাঙলা কলেজ নিয় আমার ইউটিউব ভিডিও লিংক:

সরকারি বাঙলা কলেজ,ঢাক।। মুক্তিযুদ্ধের বধ্যভূমি


৩০০ বছরের পুরনো তেওতা জমিদার বাড়ি

তেওতা জমিদার বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের প্রাচীন একটি জমিদার বাড়ি। এটি উপজেলার তেওতা নামক গ্রামে অবস্থিত।

ইতিহাসবিদদের মতে, সতেরশ' শতকে এই জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি নির্মাণ করেছিলেন পঞ্চানন সেন নামক একজন জমিদার। জনশ্রুতি অনুসারে, পঞ্চানন সেন এক সময় খুবই দরিদ্র ছিলেন, তবে একসময় দিনাজপুর অঞ্চলে গিয়ে তিনি তামাক উৎপাদন করে প্রচুর ধনসম্পত্তির মালিক হওয়ার পর এই প্রাসাদ নির্মাণ করেন। পরবর্তিতে এখানে জমিদারি প্রতিষ্ঠিত করে জয়শংকর ও হেমশংকর নামের দুজন ব্যক্তি। ভারত বিভক্তির পর তারা দুজনেই ভারত চলে গেলে বাড়িটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়।

এছাড়াও এখানে রয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিচিহ্ন।এ প্রাসাদেই নজরুল, প্রমীলা দেবীর প্রেমে পড়ে লিখেছিলেন,তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়/সেকি মোর অপরাধ

তেওতা জমিদার বাড়িটি মোট ৭.৩৮ একর জমি নিয়ে স্থাপিত। মূল প্রাসাদের চারপাশে রয়েছে আরও বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা ও একটি বড় পুকুর।প্রাসাদের মূল ভবনটি লালদিঘী ভবন নামে পরিচিত। এখানে একটি নটমন্দির রয়েছে। এছাড়াও এখানে রয়েছে নবরত্ন মঠ ও আর বেশ কয়েকটি মঠ। সবগুলো ভবন মিলিয়ে এখানে মোট কক্ষ রয়েছে ৫৫টি।


আপনাকে যেতে হবে মানিকগঞ্জের শিবালয়ের আরিচা ফেরি ঘাটে।ঢাকা থেকে সরাসরি আরিচা যাওয়া যায় পদ্মা লাইন সহ আরো বেশ কিছু বাসে।পদ্মা লাইন ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে আরিচার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়, ভাড়া ১২০ টাকা নিতে পারে। সরাসরি বাস না পেলে পাটুরিয়া গামী যেকোন বাসে উঠে বেওথা নামতে হবে, তারপর বেওথা থেকে রিকশা করে আরিচা যেতে হবে,ভাড়া ২০ টাকা।আর আরিচা থেকে তেওতা জমিদার বাড়ি যাওয়া যাবে অটোরিকশা দিয়ে, ভাড়া নিবে ২০ টাকা।

ষাইট্টা বটগাছ নিয় আমার ইউটিউব ভিডিও লিংক:

৩০০ বছরের পুরনো তেওতা জমিদার বাড়ির ইতিহাস



আরিচা নৌ বন্দর

ভারত-পাকিস্তান বিভাগের আগেই যমুনা নদীর পাড়ে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার এই আরিচা ঘাট দেশের অন্যতম বড় নৌ-বন্দর। কলকাতা-আসাম রুটের জাহাজ-স্টিমার এই ঘাটে ভিড়তো, এখানে ছিল বড় বড় পাটের গুদাম এবং গড়ে উঠেছিল জমজমাট ব্যবসা কেন্দ্র। ১৯৬৪ সালে ঢাকা-আরিচা সড়ক চালু হওয়ার পর আরিচা হয়ে উঠে ঢাকার সাথে উত্তর, পশ্চিম ও দখিন বঙ্গের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান প্রবেশ পথ।


১৯৬৩ সালের ৩১ মার্চ, একটি মাত্র গাড়ি আরিচা ঘাট থেকে নগরবাড়ি পৌঁছে দেবার মাধ্যমে এই বন্দরের যাত্রা শুরু এবং যার ভাড়া ছিল ৭৫ পয়সা।১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু উদ্বোধনের এবং একি সাথে যমুনা নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ার মাধ্যমে আরিচা ঘাটের ব্যস্ততা অনেকখানি কমে যায়। সর্বশেষ ২০০২ বাণিজ্যিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।





পাপের শহর লাস ভেগাস

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যের একটি শহর হচ্ছে লাস ভেগাস। সারা বিশ্বে এটি প্রমোদ নগরী হিসেবে বিখ্যাত। এই শহরকে মনোরঞ্জনের রাজধানীও...