নীল নদ | পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নদ | Nile River: The Longest River on Earth.

বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম একটি হলো মিশরীয় সভ্যতা। এই সভ্যতার উৎপত্তি নীলনদকে কেন্দ্র করেই।  

আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রবাহিত পৃথিবীর বৃহত্তম নদের নাম নাইল, যাকে আমরা নীল নদ নামে চিনি। প্রাচীনকাল থেকেই মিসরের সভ্যতা গড়ে উঠেছিল নীল নদকে কেন্দ্র করে।পৃথিবীর বৃহত্তম এই নদের আয়তন ৬৬৫০ কিলোমিটার। এর সর্বোচ্চ প্রশস্ততা ২.৮ কিলোমিটার। গড় গভীরতা ২৬-৩৬ ফুট (৮-১১ মিটার)। এই নদটি আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় ১০টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। দেশগুলো হচ্ছে সুদান, দক্ষিণ সুদান, রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, কঙ্গো, তাঞ্জানিয়া, কেনিয়া, ইথিওপিয়া, উগান্ডা ও মিসর।  নদীটা উগান্ডার ভিক্টোরিয়া লেক থেকে উত্পন্ন হয়ে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে ভূমধ্যসাগরে গিয়ে মিশেছে।


এর দুইটি উপনদ রয়েছে, শ্বেত নীল নদ ও নীলাভ নীল নদ। এর মধ্যে শ্বেত নীল নদ দীর্ঘতর। শ্বেত নীল নদ আফ্রিকার মধ্যভাগের হ্রদ অঞ্চল হতে উৎপন্ন হয়েছে। নীলাভ নীল নদ ইথিওপিয়ার তানা হ্রদ থেকে উৎপন্ন হয়ে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে সুদানে প্রবেশ করেছে। দুইটি উপনদী সুদানের রাজধানী খার্তুমের নিকটে মিলিত হয়েছে।

এই নদের নামকরণ নিয়েও বহু বিবাদ রয়েছে। যেমন এক ধারণা অনুযায়ী নীল শব্দটি সেমেটিক শব্দ নাহাল থেকে এসেছে,যার অর্থ নদী। আবার অন্য ধারণা অনুযায়ী নীল শব্দটি গ্রিক শব্দ নেলস থেকে এসেছে, যার অর্থ উপত্যকা।

মিশরের প্রায় ৮ কোটি মানুষ বসবাস করে নীলনদের উপকূলে, যা মিশরের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যার সমান। মিশরের সব চেয়ে বড় শহর আলেকজান্দ্রিয়া নীল নদীর মোহনায় অবস্থিত যেখানে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের বাসস্থান। 

প্রাচীন মিশর সভ্যতা প্রায় পুরোটাই নীলনদের পানির উপর নির্ভর ছিল। এই নদের পানি মানুষ পানীয় বা কৃষি কাজের জন্য ব্যবহার করত। যেহেতু মিশরে বৃষ্টিপাত খুব কম হয় তাই ইথিওপিয়াতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে তার ফলে মিশরে বন্যা সৃষ্টি এবং সে বন্যার কাদামাটি কৃষি কাজের জন্য ব্যবহার করা হতো। 

এছাড়াও পিরামিড তৈরিতে নীলনদ এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে। পিরামিডের পাথর নিয়ে আসার জন্য নীল নদকে মিশরীয়রা পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। নীলনদের দক্ষিণ প্রবাহটি ভয়ংকর নীল কুমিরের জন্য বিখ্যাত।প্রতি বছর প্রায় ২০০ জনেরও বেশি মানুষ ভয়ংকর নীল কুমিরের শিকার হয়। তাদের বেশিরভাগই মৎসজীবী অথবা স্থানীয় মানুষ। আর এভাবেই নীলনদ মিশরীয় সভ্যতাকে দিয়েছে এক অনন্য তথা ঐতিহাসিক রূপ। তাই বলা যায় এই নীল নদ মিশরীয় সভ্যতার একমাত্র ধারক ও বাহক।

দেড়শ বছর আগেও আফ্রিকার অনেক অঞ্চলই ছিল ইউরোপীয়দের কাছে অনাবিষ্কৃত। ভূগোলবিদ আর পর্যটকদের কাছে তাই বরাবরই আফ্রিকা ছিল আকর্ষণীয়। বিশেষ করে নীল নদের উৎস ছিল এক মহারহস্য। সেটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করে বিফলও হয়েছেন অনেকেই। ১৮৫৬ সালে লন্ডনের রয়েল জিওগ্রাফিক্যাল সোসাইটি নীলের উৎস খুঁজে বের করতে এক অভিযানের বন্দোবস্ত করে। এরপর অনেক প্রচেষ্টার পর ১৯৬২ সালে হ্যানিঙ স্পেক নীল নদের উৎস খুঁজে বের করেন।

‘নীল নদের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, যা পৃথিবীর অন্য কোনো নদ-নদীর নেই।’ কথাটি বলেছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সেরা চিকিৎসক, গণিতজ্ঞ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং দার্শনিক ইবনে সিনা।

উৎপত্তিস্থল থেকে শেষ প্রান্তের মাঝে এর দূরত্ব সর্বাধিক। এই নদ প্রবাহিত হয় বড় বড় পাথর ও বালুময় প্রান্তরের উপর দিয়ে, যাতে কোন শ্যাওলা ও ময়লা-আবর্জনা নেই

নীল নদের পানিতে কোন পাথর বা কংকর সবুজ হয় না। বলাবাহুল্য যে, নীল নদের পানির স্বচ্ছতার কারণেই এই রকম হয়ে থাকে।  আর সব নদ-নদীর পানি যখন কমে যায়, এর নদের পানি তখন বৃদ্ধি পায়, আর অন্যসব নদীর পানি যখন বৃদ্ধি পায়, নীল নদের পানি তখন কমে যায়।

প্রচলিত মিথ অনুযায়ী, এক সময় নীল নদের পানি প্রবাহের জন্য এখানে সুন্দরী নারীকে উৎসর্গ করা হতো। ৬৪০ খ্রিষ্টাব্দের আগ পর্যন্ত মিশরীয়রা খ্রিস্টান ছিল। এ সময়ে মিশরের এই নীল নদ প্রতি বছর শুকিয়ে যেত। সেসময় মিশরীয়রা একটি কুসংস্কার মেনে চলত। সেটি ছিল শুকিয়ে যাওয়া নদীতে কোনো পিতামাতাকে রাজি করিয়ে তাদের সুন্দরী, ষোড়শী এবং কুমারী মেয়েকে অলংকার ও সুন্দর পোশাক পরিয়ে নীল নদের শেষ সীমানায় যেখানে ডুবন্ত পানি থাকত সেখানে ভাসিয়ে দেয়া হতো। 

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ফারুখ (রাঃ) খেলাফতের সময় বিখ্যাত সাহাবি হজরত আমর ইবনে আছা (রাঃ) নেতৃত্বে ইসলাম কায়েমের জন্য ৬৪০ খ্রিষ্টাব্দে মিশর বিজয়ী হয়।

এরপর তিনি মিশরের মানুষকে জানান যে ইসলাম কখনো এ ধরণের কুসংস্কার সমর্থন করে না। অন্যায়ভাবে কোনো মানুষের জীবন এভাবে জলাঞ্জলি দেয়া ইসলামে কখনোই বৈধ হবে না। কোথাও এভাবে নারী বলি দেয়ার নিয়মের বৈধতা নেই। এরপর হয়রত ওমর ফারুক র প্রচেষ্টায় এই কুসংস্কার বন্ধু হয়।


YouTube Video Link 

নীল নদ | পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নদ | Nile River: The Longest River on Earth.

আমাজনের ভয়ঙ্কর কিছু প্রাণী

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও রহস্যময় বন হচ্ছে আমাজন বন। ব্রাজিলে অবস্থিত এ বন অত্যন্ত দুর্গম। এত দুর্গম যে, এ বনের অনেক জায়গায় আজও মানুষ পৌঁছাতে পারেনি। এখানে ঘন লতাপাতা ও গাছপালা থাকায় দিনের বেলায়ও অনেক স্থান অন্ধকারে আচ্ছন্ন থাকে। নাম না জানা অসংখ্য গাছপালাসহ বিচিত্র প্রাণী রয়েছে এখানে। এসব প্রাণী দেখতে যেমন বিস্ময়কর, তেমনি ভয়ংকরও বটে। আজকে আপনাদের জানাবো এই গহিন জঙ্গলে বসবাসকারী কিছু ভয়ংকর প্রানী সম্পর্কে 



পয়জন ডার্ট ফগ

ছোট সাইজ এবং রঙ-বেরঙের চমকানো শরীর দেখে অনেকেই নিরীহ বলে মনে করেন ব্যঙকে। এইগুলো দেখতে এতো সুন্দর যে ইচ্ছে হবে হাতে নিয়ে একটু এর শরীরে হাত বুলিয়ে দিতে। যদি আপনি এমনটা করেন তাহলে যেনে নিন আপনার মৃত্যু অবধারিত।কারণ আমাজনে বসবাসকারী এ ক্ষুদ্র ব্যাঙগুলো পৃথিবীর বিষাক্ত প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম।এর বিষ রয়েছে শরীরের চামড়ার উপরে।এই ক্ষুদ্রাকৃতির উজ্জ্বল রঙের ব্যাঙকে শিকারিদের দূরে রাখার এক সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত।পয়জন ডার্ট ফগ মাত্র দুই ইঞ্চি লম্বা, কিন্তু এর বিষ দশজন শক্ত-সমর্থ মানুষকে মেরে ফেলতে সক্ষম।


গ্রিন অ্যানাকোন্ডা

আমাজন বলতেই অ্যানাকোন্ডা সাপের কথা চোখে ভাসে। এই অ্যানাকোন্ডারই অরেক জাত হচ্ছে গ্রিন অ্যানাকোন্ডা। একে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাপ। আমাজন নদীতেই এদের দেখা মেলে। এদের দৈর্ঘ্য ৩০ ফুট পর্যন্ত হয়। আর ওজন ২৫০ কেজিরও বেশি।


পিরারুকু

বিশ্বের সুস্বাদু জলের বৃহত্তম মাছ এটি। পিরারুকু নামেও পরিচিত এরা। এদের দৈর্ঘ্যে প্রায় ১০ ফুট হয়। এরা মাংসাশী হয়।


ক্যান্ডিরু 

এটি একটি ছোট প্রজাতির রক্তপিপাসু মাছ। এদের ভ্যাম্পায়ার ফিশ-ও বলা হয়ে থাকে। বলিভিয়া, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, পেরুতে এদের পাওয়া যায়।


পিরানহা

এই মাছের মধ্যে রেড বেলি পিরানহা খুবই ভয়ানক। আমাজন নদীর ত্রাস বলা হয় এই মাছকে। এরা ঝাঁক বেঁধে ঘুরে বেড়ায়। শিকার করে দলবদ্ধ ভাবে। এদের দাঁতে এত ধার যে নিমেষে বড় কোনো পশুকে সাবড়ে দিতে পারে।এদের কামড় ভীষণ শক্তিশালী। এতটাই শক্তিশালী যে মানুষের মাংস পর্যন্ত ছিঁড়ে খেতে ফেলতে পারবে। এদের নরখাদকও বলা হয়। তবে সাধারণত এরা মরা প্রাণীর মাংসই বেশি খেয়ে থাকে। খুব ক্ষুধার্ত থাকলে এরা একক বা দলবদ্ধভাবে মানুষকে আক্রমণ করে। এজন্যই এরা এত ভয়ংকর।


বুল শার্ক

সাধারণত হাঙরদের দেখা মেলে সমুদ্রে। কিন্তু আমাজন নদীতেও এক ধরনের হাঙ্গর দেখতে পাওয়া যায়, যার নাম বুল শার্ক। বিশাল দেহী এই প্রাণিটি লম্বায় ১১ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে।আর ওজন ৩০০ কেজিও হতে পারে।


ইলেকট্রিক ইল

এরা ক্যাটফিশ প্রজাতির। দৈর্ঘ্যে প্রায় সাড়ে আট ফুটের মত হয়। এদের শরীরে ৬০০ ভোল্টের মত বিদ্যুত্ উত্পন্ন হয়। 


ব্ল্যাক কেমান

আমাজনে এক ধরনের বিশালদেহী কুমির দেখতে পাওয়া যায়, যার নাম ব্ল্যাক কেমান। এদের আমাজন নদীর রাজা বলা হয়। এই প্রাণিটি প্রায় ২০ ফুটের মতো লম্বা হয়ে থাকে।কুমিরের বড় প্রজাতির মধ্যে অন্যতম হলো ব্ল্যাক কেইমেন। 

এদের আমাজনের হ্রদ এবং ধীরে প্রবাহিত হয় এমন নদী ও ঋতুভিত্তিক বন্যায় ভেসে থাকতে দেখা যায়। এদের গায়ে ছোপ ছোপ কালো রং থাকায় খুব সহজে ছদ্মবেশ ধারণ করতে পারে। 


জাগুয়ার

জাগুয়ার বিরল প্রজাতির মধ্যে অন্যতম একটি প্রানি। সিংহ ও বাঘের পরে সবচেয়ে বড় প্রাণী হলো এই প্রাণী। আমাজনের বন্য প্রাণীদের মধ্যে জাগুয়ার সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক ও হিংস্র

মাংসাশি প্রাণী। এদের খাদ্যতালিকা বেশ বিস্তৃত। এরা বনের নানা প্রাণী খেয়ে থাকে। যদিও এরা মানুষ খায় না, কিন্তু সহজেই মানুষকে মেরে ফেলতে পারে। জাগুয়ার পানি থেকে শুরু করে গাছের মগডাল পর্যন্ত উঠে শিকার করতে পারে। এরা ব্ল্যাক কেইমেন থেকে শুরু করে হরিণ, কুমিরসহ আমাজনে প্রাপ্ত প্রায় সব প্রাণীই খায়।


ফুটন্ত পানি নদী,

আমাজনের এক বিষ্ময়কর জায়গা হচ্ছে এই ফুটন্ত গরম পানির নদী। অবিশ্বাস্য হলেও এমন নদী আমাজনে রয়েছে। নদীটির পানির তাপমাত্রা  ২৭০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। দৈনন্দিন উদাহারণ দিয়ে বোঝাতে গেলে বলতে হয়, কফি তৈরির গড় তাপমাত্রা ১৩০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। তাই এই নদীর পানি কতটা গরম তা শারীরিকভাবে কল্পনা করাটাও কঠিন।এই নদীটি পেরুর  ৮২ ফুট (২৫ মিটার) লম্বা এবং প্রায় ২০ ফুট (ছয় মিটার) গভীর।


YouTube Video Link

আমাজনের ভয়ঙ্কর কিছু প্রাণী,যা দেখলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন!!The Most Dangerous Animals in the Amazon

আমাজন বন

আমরা যতই চাঁদ, মহাকাশ জয় করিনা কেন, পৃথিবীর অনেক রহস্যই আজো আমাদের অজানা রয়ে গেছে। আমাজন জঙ্গল এমনই একটি রহস্য। আমাজন জঙ্গল নিয়ে আগ্রহ নেই এমন মানুষ খুব কমই আছে। আর আগ্রহ থাকবেই বা না কেন! এই পুরো জঙ্গলটাই তো একটা রহস্য আর বিষ্ময়ে ভরপুর।

আমাজনকে রেইনফরেস্ট  বলা হলেও এর অর্থ কিন্তু এই না যে এখানে সারা বছর বৃষ্টিপাত হয়। বরং রেইনফরেস্ট বলা হয় এখানকার অত্যধিক আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত (বর্ষা মৌসুমে) এবং গরম আবহাওয়ার কারনে। প্রচন্ড গরমের কারনে এখানে বাষ্পীভবনের হার অনেক বেশি যা আর্দ্রতা এবং বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ার অন্যতম কারন।

আমাজান বন আমাজন নদীর অববাহিকায় পৃথিবীর সবচে বড় নিরক্ষীয় বন,যার আয়তন সাড়ে ৫ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার বা ৩.৪ মিলিয়ন বর্গ মাইল,পৃথিবী জুড়ে যে রেইনফরেস্ট রয়েছে তার অর্ধেকটাই হচ্ছে এই আমাজন বন

যদি এই রেইন ফরেস্টটি একটি দেশ হতো, তাহলে বিশালতার দিক থেকে এটি হতো বিশ্বের নবম বৃহত্তর দেশ। এই বন বাংলাদেশর তুলনায় ৩৮ গুন বড়। বৃটেন ও আয়ারল্যান্ডকে ১৭ বার এই ফরেস্টে রাখা যাবে।দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মোট আয়তনের ৪০% এই বনের দখলে। 

আমাজন দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের উত্তরভাগের ৯টি দেশের অন্তর্ভুক্ত। এর ৬০ ভাগ ব্রাজিলে, ১৩ ভাগ পেরুতে এবং বাকি অংশ কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, গুয়ানা, সুরিনাম এবং এবং ফরাসি গায়ানাতে অবস্থিত।

এ বনে রয়েছে ১২০ ফুট উঁচু গাছ, ৪০ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ, ২.৫ মিলিয়ন প্রজাতির কীট–পতঙ্গ, ১,২৯৪ প্রজাতির পাখি, ৩৭৮ প্রজাতির সরীসৃপ,আমাজনে ৪৫ লাখ প্রজাতির পোকামাকড় ৪২৮ প্রজাতির উভচর এবং ৪২৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীসহ হাজারো প্রজাতির অজানা জীব–অণুজীব।

পাশাপাশি আমাজন নদীতে ৩০০০ প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী আছে।আমাজন জঙ্গলের পেরুর অংশে একটি মাত্র গাছে ৪৩ হাজার প্রজাতির পিপড়া পাওয়া গিয়েছে।বিশ্বে খাবারের যে বৈচিত্র্য দেখা যায়, তার  ৮০ শতাংশই আসে আমাজন জঙ্গল থেকে। এছাড়া বর্তমানে যেসব ওষুধ তৈরি হয়, তার প্রায় ২৫ শতাংশ উপাদান আসে আমাজন থেকে।নানা রকম প্রজাতির বাসস্থান হিসেবে সমৃদ্ধ এই আমাজন।এই বনে প্রায় ১৬০০০ হাজার প্রজাতির ৩৯০ বিলিয়ন বৃক্ষ রয়েছে।

পর্তুগিজ অভিযাত্রীরা বিশ্বাস করত, বিশাল এ বনের মধ্যেই কোথাও লুকিয়ে আছে এলডোরাডো নামের এক গুপ্ত শহর। ধারণা করা হতো এই শহরটি পুরোটা স্বর্ণের। এই ভ্রান্ত ধারণাটি এসেছে গ্রিক পৌরাণিক গল্প থেকে।

সে গল্পে বলা হয়েছে, ‘এলডোরাডো’ নামক সোনায় মোড়ানো শহরটি পাহারা দেয় এক শ্রেণির বিশেষ নারী যোদ্ধারা। যাদের গল্পে ‘আমাজন’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। পর্তুগিজ, স্প্যানিশ এবং ফ্রেঞ্চ অভিযাত্রীরা প্রতিযোগিতায় নামে এই ‘এলডোরাডো’ শহর আবিষ্কারের জন্য। কিন্তু কেউ এই কাল্পনিক শহরের খোঁজ পায়নি। শহরের সন্ধান না পেলেও স্থায়ী হয়ে যায় সেই নারী যোদ্ধাদের নাম। তাদের নামানুসারেই এই জঙ্গলের নাম হয় আমাজন জঙ্গল।


সম্প্র্রতি বিজ্ঞানীরা বলছেন  অ্যামাজনের গাছের প্রজাতির সংখ্যার তালিকা তৈরি করতে তিনশ বছর লেগে যাবে। এরই মধ্যে জাদুঘরে রাখা ৫ লাখেরও বেশি উদ্ভিদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার প্রজাতির গাছের সংখ্যা আবিষ্কৃত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আরও প্রায় চার হাজার বিরল প্রজাতির উদ্ভিদের দেখা মিলতে পারে পৃথিবীর ফুসফুস খ্যাত বনে। ।

অ্যামাজনে আছে মাংসখেকো গাছ। এই গাছের আঠায় প্রজাপতি, ফড়িংয়ের  মতো ছোট প্রাণীরা আটকে যায়। তখন গাছের পাতা ঢেকে গিলে নিতে শুরু করে।আমাজনে আছে ‘লবস্টার ফ্লাওয়ার’। এই ফুলটি লম্বায় দেড় থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত হতে পারে।এর একেকটি পাতা ৬ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত প্রসারিত হয়। এ ছাড়া অ্যামাজনে ৩ হাজারেরও বেশি প্রজাতির অর্কিড রয়েছে। আছে রাবার গাছ। অ্যামাজন জঙ্গলের রাবার গাছগুলো একেকটা ১০ তলা বিল্ডিং এর সমান উঁচু হয়ে থাকে। চকো-বীন বা চকলেট উৎপাদনকারী গাছেরও ঠিকানা বনে।

 অ্যামাজনের গভীরে আছে কফি গাছ। দৈত্যাকার পদ্মফুলের দেখা মিলবে এখানে। ভিক্টোরিয়া অ্যামাজোনিকা অ্যামাজনের আরেক বিস্ময়। প্রায় ৩ ডায়ামিটারের এই পদ্মফুল শুধু এই বনেই গহিনেই দেখা মেলে।আছে ফুটন্ত গরম পানির নদী, বিষাক্ত ব্যাগ যার বিষ ১০ জন মানুষকে মেরে ফেলতে পারে।আছে ভয়ংকর মানুষখেকো পিরানহা,

এই আমাজন বনের ভেতরেই আছে আয়তনে পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম আমাজন নদী। এর প্রায় ১,১০০টি উপনদী আছে যার মধ্যে ১৭টির দৈর্ঘ্য ১০০০ মাইলের বেশি। এ নদ আমাজন অঞ্চলের প্রাণিবৈচিত্র্যের প্রধান উৎস 

বিশ্বের প্রায় বেশিরভাগ মিঠাপানির যোগান দেয় এই নদী। যা মোট পরিমানের ২৫ শতাংশ প্রায়। দীর্ঘতম নদীর দিক থেকে দ্বিতীয় হলেও বিশ্বের সবচেয়ে বেশী পানি বহন করে এই নদী। বলা হয়ে থাকে, যেখানে আমাজন নদীর পানি সাগরে মিলিত হয় সেখানে সাগরের প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সাগরের লবনাক্ত পানিও মিঠা পানি হয়ে যায়। বর্ষা মৌসুমে এ নদের মুখ  প্রায় ৩০০ মাইল চওড়া থাকে।

এই বনে ৩০০শ এর বেশি উপজাতি বাস করে। মোট ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর সংখ্যা ১০লাখেরও বেশি। তারা বেশির ভাগ ব্রাজিলীয়। এছাড়া তারা পর্তুগীজ, স্প্যানিস ভাষায়ও কথা বলে। এছাড়াও এদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। এদের মধ্যে কিছু যাযাবর। এদের বহিঃবিশ্বের সাথে তেমন যোগাযোগ নেই।

গবেষকদের মতে, এই বন প্রতি বছর ২০০ কোটি মেট্রিক টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে। সে কারণে একে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ নামে ডাকা হয়। তবে স্থানীয় অনেক সংস্থার অভিযোগ, সরকারি আইন অমান্য করে ব্রাজিলে  বন উজাড়ের হার অনেক বেড়ে গিয়েছে। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দেশটির স্পেস এজেন্সির তথ্য মতে, ২০১৯ সালের এপ্রিলের তুলনায় ২০২০ সালের এপ্রিলে বন উজাড়ের হার ৬৪ ভাগ বেশি। 

ফলাফল স্বরূপ এ বছরের প্রথমার্ধে বৃক্ষ নিধনের মাধ্যমে অ্যামাজনের বন উজাড়ের হার ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এদিকে ব্রাজিলের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট স্পেস রিসার্চের তথ্য মতে, গেল এপ্রিল মাসে প্রায় ৪০৫ বর্গকিলোমিটার বন নিঃশেষ হয়েছে। গত বছরের এপ্রিলে যার পরিমাণ ছিল ২৪৮ বর্গকিলোমিটার। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে উজাড় হয়েছে ১ হাজার ২০২ বর্গকিলোমিটার বনাঞ্চল।


YouTube Video Link 

রহস্যময় আমাজন বন | কি আছে এই আমাজনের গহীনে? Amazon: Largest Rainforest In The World |

পাপের শহর লাস ভেগাস

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যের একটি শহর হচ্ছে লাস ভেগাস। সারা বিশ্বে এটি প্রমোদ নগরী হিসেবে বিখ্যাত। এই শহরকে মনোরঞ্জনের রাজধানীও...